সিজারের পর সংক্রমণ, সিভিল সার্জনসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

0
5

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর স্ত্রীর পেটে সংক্রমণ এবং পরবর্তী সময়ে পুনরায় অস্ত্রোপচার করানোর ঘটনায় চিকিৎসা ব্যয়ের টাকা ফেরত না পাওয়ার অভিযোগে চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন মো. সন্টু রহমান (৩৫) নামের এক ব্যক্তি।

অভিযোগে অপর দুজন হলেন আলমডাঙ্গার আব্দুল হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী বাবলু ও তাঁর ছেলে আবির।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আলমডাঙ্গা থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে সন্টু রহমান উল্লেখ করেন, তাঁর স্ত্রী মোছা. চুমকি খাতুনকে গত ২০ আগস্ট আনন্দধাম রোডসংলগ্ন আব্দুল হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করানো হয়। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, অস্ত্রোপচারের স্থান যথাযথভাবে পরিষ্কার না করেই সেলাই করা হয়। ওই সময় সেখানে চিকিৎসক ডা. সালাম ও ক্লিনিকের অভিযুক্ত আবির উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সন্টুর অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের কয়েকদিন পর থেকেই তাঁর স্ত্রীর পেটে অস্বাভাবিক জ্বালাযন্ত্রণা শুরু হয়। বিষয়টি ক্লিনিকের মালিক বাবলুকে জানালে তিনি গ্যাসের ব্যথা বলে কিছু ওষুধ দেন। তবে ওষুধ সেবনের পরও ব্যথা না কমায় স্ত্রীকে ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদের কাছে নিয়ে যান তিনি।

অভিযোগে বলা হয়, চিকিৎসক নিজ হাতে চুমকি খাতুনের পেট পরীক্ষা করে পুনরায় আব্দুল হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিকে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন এবং ওষুধ লিখে দেন। পরে তাঁকে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত ৪ সেপ্টেম্বর তাঁকে কুষ্টিয়ার চিকিৎসক ডা. এস এম মুসা করিবের কাছে নেওয়া হয়।

সন্টুর ভাষ্য, কুষ্টিয়ার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হলে চিকিৎসকের মাধ্যমে তাঁরা জানতে পারেন, অস্ত্রোপচারের স্থানে সংক্রমণ হয়েছে। পরে তাঁকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে চুমকি খাতুনকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর পুনরায় অস্ত্রোপচার করা হয়। এ চিকিৎসায় তাঁর প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সন্টু রহমান আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি ক্লিনিকের মালিক বাবলুকে জানালে তিনি চিকিৎসা বাবদ ব্যয় হওয়া টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন। এর মধ্যে তাঁকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বাকি টাকা পরে পরিশোধের কথা থাকলেও পরবর্তীতে টাকা চাইলে তাঁকে ঘোরানো হয় এবং একপর্যায়ে বাকি টাকা দেওয়া হবে না বলে জানানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগে সাক্ষী হিসেবে মো. সাজাহান, রফিকুল ইসলাম ও মো. বেল্টুর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা সবাই আলমডাঙ্গার বাদেমাজু গ্রামের বাসিন্দা।

সন্টু রহমান বলেন, তিনি অত্যন্ত দরিদ্র। ধারদেনা করে স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ বহন করেছেন। চিকিৎসার ব্যয় পরিশোধ না হলে স্ত্রীর পরবর্তী চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে—এমন আশঙ্কা থেকেই থানায় অভিযোগ করেছেন তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল অ্যান্ড ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী বাবলু বলেন, চুমকি খাতুনের অস্ত্রোপচার করেছিলেন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ এবং অ্যানেসথেশিয়ার দায়িত্বে ছিলেন সহকারী অধ্যাপক ডা. আব্দুস সালাম। অস্ত্রোপচারের পর রোগী সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন। পরে কোনো কারণে পেটে রক্ত জমাট বাঁধায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর পুনরায় অস্ত্রোপচার করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

অস্ত্রোপচারে কোনো ত্রুটি ছিল না দাবি করে বাবলু বলেন, অপারেশনের স্থান পরিষ্কার না করে সেলাই করার অভিযোগ সঠিক নয়। সব ধরনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মেনেই অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। কুষ্টিয়ায় রোগীর অস্ত্রোপচারের সময় তাঁকে একাধিকবার ফোন করা হয়েছিল। পরে তাঁদের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। আরও ১০ হাজার টাকা দিতে চাইলেও তা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

চিকিৎসায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা ব্যয়ের অভিযোগের বিষয়ে বাবলু বলেন, রোগীর পরিবার দরিদ্র হলেও সব মিলিয়ে চিকিৎসায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকার মতো খরচ হতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আলমডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী বৃহস্পতিবার থানায় অভিযোগ দিতে এসেছিলেন। বিষয়টি যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সিজারের পর সংক্রমণ, সিভিল সার্জনসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

Share this news as a Photo Card

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here