আশ্রয়ণের নামে ভোগান্তি: ৫২ ঘরের প্রকল্পে টিকে আছে ১৫ পরিবার

0
5

অনলাইন ডেস্ক

​গৃহহীনদের মুখে হাসি ফোটাতে সরকারি উদ্যোগে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্প এখন সদরপুরের ঢেউখালীর বাসিন্দাদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রকল্প এলাকাটি ভুতুড়ে পরিবেশের রূপ নিয়েছে। চারিদিকে ঝোপঝাড়ের জঙ্গল, জলাবদ্ধতা এবং নিরাপত্তাাহীনতায় দিন কাটছে অসহায় মানুষগুলোর।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের অধিকাংশ ঘর দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকায় সেগুলো যেমন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, তেমনি পুরো এলাকার পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় বাসিন্দাদের। প্রতিদিন সন্ধ্যায় মাদকের হাট বসায় স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা দিন দিন বাড়ছে।

এই প্রকল্পে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য মোট ৫২টি সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু তীব্র সংকটের কারণে সিংহভাগ পরিবার চলে যাওয়ায় বর্তমানে সেখানে মাত্র ১৫টি পরিবার বসবাস করছে।

​এ বিষয়ে ঢেউখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতি জানান, বাসিন্দাদের এই মানবেতর জীবনযাপনের বিষয়টি তিনি সরেজমিন দেখেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানে বসবাসের কোনো অনুকূল পরিবেশ নেই। বিষয়টি ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করা হয়েছে।

​চেয়ারম্যান আরও বলেন, “প্রকল্পটি চালুর আগে পর্যাপ্ত মাটি ভরাট করা উচিত ছিল। এখন মাটি ভরাট করলে জলাবদ্ধতা আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। তাই বিকল্প হিসেবে প্রকল্পের চারপাশ ঘিরে একটি পাকা ড্রেন নির্মাণের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।”

​তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়েও তাঁর সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো সাড়া মেলেনি। যে কারণে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

​দ্রুত এই সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী বাসিন্দারা। তাদের মতে, জরুরি ভিত্তিতে একটি কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি করা হলে জলাবদ্ধতার এই অভিশাপ থেকে মুক্তি মিলেবে। পাশাপাশি, পরিত্যক্ত ঘরগুলো সংস্কার, ঝোপঝাড় পরিষ্কার এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

​ভূমিহীন ও প্রান্তিক মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এবং নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতেই আশ্রয়ণ প্রকল্পের মতো মহৎ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঢেউখালীর এই প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে সেই মহৎ উদ্দেশ্যই এখন প্রশ্নবিদ্ধ। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নত করে এবং অবকাঠামোগত ত্রুটি দূর করে প্রকল্পটিকে বসবাসযোগ্য করে তুলতে জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


আশ্রয়ণের নামে ভোগান্তি: ৫২ ঘরের প্রকল্পে টিকে আছে ১৫ পরিবার

Share this news as a Photo Card

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here