
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের আসাম রাজ্যের ডিব্রুগড়ের বগিবিল টার্মিনাল থেকে ৫৪০ মেট্রিক টন মিথানল নিয়ে একটি কার্গো জাহাজ ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। এর মধ্য দিয়ে ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের প্রায় ৭০ বছর পর এই প্রথম আসাম থেকে কোনো আন্তর্জাতিক বন্দরে সরাসরি পণ্য পরিবহন শুরু হলো।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঐতিহাসিক এই নৌপথের শুভ উদ্বোধন করেন ভারতের কেন্দ্রীয় বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল। অনুষ্ঠানে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া রাজ্য সরকারের একাধিক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ‘আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেড’-এর (এপিসিএল) নামরূপ কারখানায় উৎপাদিত এই মিথানল বাংলাদেশের ঢাকার পানগাঁও নৌবন্দরের উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছে।
একসময় পূর্ব ভারতের অন্যতম ব্যস্ত নদীবন্দর ছিল ডিব্রুগড়।
১৮৫৬ সালের মধ্যেই তৎকালীন কলকাতা থেকে সরকারি স্টিমারগুলো এখানে পৌঁছাত। ১৮৮২ সালে ডিব্রুগড় স্টিমার ঘাট থেকে চালু হয় ‘ডিব্রু-সাদিয়া রেলওয়ে’। ১৯১৩ সালের মধ্যে চা, কাঠ ও যাত্রী নিয়ে প্রতিদিন স্টিমার চলাচল করত এই ঘাটে।
তবে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এই ঐতিহ্যবাহী নৌপথকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ফলে আসামের পণ্য কলকাতায় পৌঁছাতে বাংলাদেশের ওপর নির্ভর করতে হতো। এরপর ১৯৫০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ডিব্রুগড়ে নদীর তলদেশ পরিবর্তিত হয়ে যায়। ধীরে ধীরে চা পরিবহন রেলপথে স্থানান্তরিত হওয়ায় ১৯৫৪ সালে ডিব্রুগড় ঘাট থেকে নিয়মিত বুকিং বন্ধ হয় এবং ১৯৫৬ সালের ১৫ অক্টোবর ঘাটটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এর দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে, ১৯৭২ সালে ভারত ও বাংলাদেশ একটি নদী বাণিজ্য প্রোটোকল স্বাক্ষর করে। ১৯৮৮ সালে সাদিয়া থেকে ধুবড়ী পর্যন্ত ৮৯১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্রহ্মপুত্র নদকে ‘জাতীয় জলপথ-২’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।












