
তাছলিমা আক্তার,রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি:
বিষাক্ত তরল রাসায়নিক পদার্থ ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বিষাক্ত ক্যামিকেল মিশ্রিত পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের ফেলে দেওয়া পাত্র বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে। এসব প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি হয় দানা নামক প্লাস্টিকের কাঁচামাল।
অবৈধ কারখানাটি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের বালুয়াকান্দি স্কুলের পাশে অবস্থিত। কারখানাতে প্রতিষ্ঠানের কোনো সাইনবোর্ড ছিলোনা। এটিরও কোনো নাম-ঠিকানা নেই। এই কারখানার মালিক পক্ষও দেখাতে পারেনি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র।
স্থানীয় বাসিন্দা জানান, কয়েক বছর আগেও এই এলাকায় প্লাস্টিক-পলিথিনের কোনো কারখানা ছিল না। ময়লা-আবর্জনা ও বিষাক্ত ক্যামিকেল মিশ্রিত পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বিভিন্ন জায়গায় থেকে এনে এখানে জড়ো করা হয়। পরিত্যক্ত প্লাস্টিকগুলো দিনের পর দিন খোলা আকাশের নিচে ফেলে রাখা হয়। ফলে রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে বৃষ্টির পানির সাথে বিষাক্ত ক্যামিকেল মিশে উর্বর ফসলি জমি ও আশপাশের বাড়িতে প্রবেশ করছে। প্রচন্ড রোদে বিষাক্ত ক্যামিকেল গুলো শুকিয়ে বাতাসের সাথে মিশে বাতাস ভারী হচ্ছে। স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। দিনে-রাতে এসব প্লাস্টিক শ্যালু জাতীয় একধরনের মেশিনে সাহায্যে গুর করে প্লাস্টিকের কাঁচামাল (দানা) তৈরি করা হয়। এতে আশপাশ ও স্কুলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। ফলে স্কুলে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস করা কষ্টদায়ক হয়ে পড়ে। জৈনক আরেক ব্যক্তি বলেন, কারখানার সামনেই আছে বালুয়াকান্দি স্কুল। বিষাক্ত ক্যামিকেলের দুর্গন্ধে স্কুলের ক্লাস নিতে ব্যাহত হয়। স্কুলে পড়তে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের বিষাক্ত গ্যাসের গন্ধের কারণে নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। মাথা ভার হয়ে যায়। তাই অধিকাংশ সময় স্কুলের জানালা বন্ধ রাখা হয়। কারখানার মালিক স্থানীয় ও প্রভাবশালী কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পান না।
সরজমিনে কারখানার শ্রমিকের সাথে কথা বলে জানা যায়, আমরা পুরাতন পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বিভিন্ন হকারদের মাধ্যমে ক্রয় করে থাকি। পরে তা মেশিনের সাহায্যে ভেঙে প্লাস্টিকের কাঁচামাল (দানা) তৈরি করা হয়। এসব দানা দিয়ে নতুন প্লাস্টিকের পণ্য তৈরি হয়ে থাকে। কারখানার ছাড়পত্র আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনুমতি নিয়ে মালিক এই কারখানা চালু করেছেন। কিন্তু কোন কর্তৃপক্ষ থেকে অনুমতি নিয়েছেন, তার কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি বা সুদ্দোত্তর দিতে পারেননি। কারখানার মালিক কাদির মিয়ার সাথে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।





