
মোঃ কাফি হোসেন,ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে ২ যুবক নিহতের ঘটনায় আসামি পক্ষের বাড়ি সহ চরাঞ্চল থেকে আসা বসবাসকারী কমপক্ষে ৪০/৪৫ জনের বাড়ি ও খরের পালাতে অগ্নি সংযোগ করেছে স্থানীয় জনতা।
বৃহস্পতিবার জোহরের নামাজ শেষে নিহত মিম ও রাকিবের নামাজের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।জানাযা ও দাফন কার্য শেষে খোদাদাতপুরের স্হানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে দুপুর অনুমানিক ২টায় হত্যাকারী আসামি ওমর আলী সহ বাহির থেকে বসতিগড়া অন্তত ৪০/৪৫টি টিন ও কাঁচা পাকা বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।
ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত জনতা কে ছত্রভঙ্গ করে।পরে বিরামপুর ও ফুলবাড়ি থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয়।এসময় ঘোড়াঘাট এবং পলাশ বাড়ির ফায়ার সার্ভিসের পাঁচ ঘণ্টার যৌথ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
দিনাজপুর জেলার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে সহকারী পরিচালক মঞ্জিল হক জানান,খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ঘোড়াঘাট ও পলাশ বাড়ির ফায়ার সার্ভিসে সদস্যরা দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্ষয় ক্ষতির পরিমান নিরূপণ করা এখনো সম্ভব হয়নি বলেও তিনি জানান।
ঘোড়াঘাট ৪নং ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান ভুট্ট জানান,এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।এধরনের ঘটনা কখনো কাম্য নয়।তৃতীয় এক পক্ষ দুই পক্ষকে ইন্ধন দিয়ে এধরণের কাজ করতে পারে বলে মন্তব্য করেন।বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
ঘোড়াঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবু হাসান কবির জানান,খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আমরা উত্তেজিত জনতা কে নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিরামপুর, ফুলবাড়ি থেকে অতিরিক্ত পুলিশ আনা হয়েছে।নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোড়দার করা হয়েছে।এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
এর আগে ২৫ জানুয়ারী বুধবার সকাল সাড়ে সাড়ে ৯টায় খোদাদাদপুর হঠাৎ পাড়া চারমাথায়এক টুকরো জমি সংক্রান্ত্ম বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান মনোয়ার হোসেন মিম (২৪) নামে এক যুবক।গুরতর আহত অবস্থায় বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় মারা যান রাকিব হোসেন (২৫) নামের অপর এক যুবক।আহত হন ৫ জন।
এঘটনায় নিহত মনোয়ারের বাবা ৫জন কে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এসময় ৪জন কে আটক করতে সক্ষম হয়। এখনো পর্যন্ত ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পরিমান পুলিশ মোতায়েন আছে।










