
মোঃ শামীম খন্দকার,কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
আগামীকাল শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে ৩ দিনের রবীন্দ্র মেলা। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত কুষ্টিয়ার কুমারখালী শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে উদযাপিত হতে যাচ্ছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬২তম জন্মজয়ন্তী উৎসব। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিদিনই শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়িতে বাড়ছে দর্শনার্থীদের ভিড়।
প্রতিবারের মতো এবারও কুঠিবাড়ির আঙ্গিনায় বাঁশ-কাঠ-ত্রিপল দিয়ে চলছে মঞ্চ ও দর্শনার্থীদের বসার স্থান নির্মাণের শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। বিরূপ আবহাওয়া নিয়ে শঙ্কা থাকলেও ঝড়-বৃষ্টি মাথায় রেখেই চলছে এই আয়োজন। রবীন্দ্র কুঠিবাড়িতে রং-তুলির আঁচড়, ব্যবহৃত জিনিসপত্রকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। এখন শুধুই অপেক্ষার পালা। জন্মজয়ন্তী কেন্দ্র করে কুঠিবাড়ির মাঠেই তিন দিনব্যাপী গ্রামীণ মেলারও আয়োজন করা হয়েছে। জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে অতিথিদের আমন্ত্রণপত্র বিতরণ এবং রবীন্দ্র জয়ন্তী উদযাপনে ইতোমধ্যে সকল ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন। এ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরাও সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
আগামীকাল সোমবার (৮ মে) ২৫শে বৈশাখ উদ্বোধনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিশ্বকবির ১৬২তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন কুষ্টিয়ার কৃতি সন্তান জনাব মোঃ মাহবুবউল আলম হানিফ। মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য কুষ্টিয়া -৩ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এদিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থাকবেন কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসার) মাননীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার, জনাব ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ (এমপি)। কুষ্টিয়ার সুযোগ্য পুলিশ সুপার, জনাব মোঃ খায়রুল আলম। আরো উপস্থিত থাকবেন কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিতান কুমার মন্ডল। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করবেন কুষ্টিয়ার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক, জনাব মোঃ সাইদুল ইসলাম। এছাড়াও এবারের রবীন্দ্রনাথ জয়ন্তী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করবেন বিভিন্ন রবীন্দ্র সংগীত শিল্পীবিন্দু। তাই ১৬২তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে এখন সাজসাজ রব পুরো কুঠিবাড়ি প্রাঙ্গণ জুড়ে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দাদা প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ১৮০৭ সালে এই অঞ্চলের জমিদারি পান। পরবর্তী সময়ে ১৮৮৯ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিলাইদহে জমিদার হয়ে আসেন। এখানে শিলাইদহে তিনি ১৯০১ সাল পর্যন্ত জমিদারী পরিচালনা করেন। এখানে অবস্থানকালে তিনি রচনা করে তার বিখ্যাত গ্রন্থ সোনার তরী, চিত্রা, চৈতালীসহ আরও বিভিন্ন গ্রন্থ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিলাইদহে বসেই গীতাঞ্জলী কাব্য গ্রন্থের অনুবাদের কাজ শুরু করেন। পরে ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলী গ্রন্থের অনুবাদে সাহিত্যে প্রথম নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। এখানে বসে রচনা করা বিশ্বকবির অসংখ্য গান, কবিতা ও সাহিত্যকর্ম বাঙলা সাহিত্যকে করেছে সমৃদ্ধ। তাই রবীন্দ্র সাহিত্যে শিলাইদহের গুরুত্ব অন্যতম।
এবছর স্থায়ীভাবে নির্মিত মঞ্চে চলবে কবিগুরুর সাহিত্য ও শিল্পজীবন নিয়ে আলোচনা, গান ও কবিতা। এখানে এসে কবিগুরুর শিল্প ও সাহিত্যকর্ম ব্যক্তিজীবনে অনুপ্রেরণা যোগায় এমনটায় মনে করেন রবীন্দ্র ভক্ত ও দর্শনার্থীরা। বৈশাখের ঝড়-বৃষ্টিতে উৎসবের আয়োজন যাতে বিফলে না যায় তাই অক্লান্ত পরিশ্রম করছে নির্মাণ শ্রমিকেরা। পাশাপাশি আয়োজনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন বলে জানিয়েছেন তারা।





