
হানিফ পারভেজ,বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
ভরা বর্ষা মৌসুমে দেখা নেই বৃষ্টির। জমিতে পানি না থাকায় আমন ধান লাগাতে পারছেন না কৃষকরা। এক দিকে পানির অভাবে জমি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে বীজতলাও শুকিয়ে ধানের চারা মরে যাচ্ছে। এই মৌসুমের ধানের চাষ সম্পূর্ণ বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা।
মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখার ১০টি ইউনিয়নে বৃষ্টির অভাবে কৃষকেরা ধানের চারা রোপণ করতে পারছে না। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় মাঠে পানি নেই। অনেক জমি পানির অভাবে ফেটে যাচ্ছে। কৃষকেরা আমণ মৌসুমে আমনের চারা রোপণ করতে পারছে না।
শ্রাবণ মাস প্রায় শেষ হতে চললেও পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে কৃষকরা ধানের চারা রোপণ করতে হিমশিম খাচ্ছে। গ্রাম বাংলায় একটি প্রবাদ আছে ‘শ্রাবণের ১৬ ও ভাদ্র মাসের ১৩, এর মধ্যে যত পারো আমন চারা রোপণ করো’।
শ্রাবণ মাসে অধিক বৃষ্টির কারণে আমন ধানের চারা রোপণের মোক্ষম সময় হলেও এবার বৃষ্টির পানির অভাবে কৃষকরা পড়েছে বিপাকে। ফলে বৃষ্টির অভাবে শ্রাবণ মাসে আবাদি জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। অথচ শ্রাবণের ২০ তারিখ পার হলেও বৃষ্টির দেখা মিলছে না। আকাশে মেঘের ভেলা ভেসে বেড়ালেও বৃষ্টি হচ্ছে না।
আর মাঝে মাঝে যে বৃষ্টি হচ্ছে চাহিদার তুলনায় এতই নগণ্য যে, জমি ফেটে চৌচির হয়ে যাওয়ায় সাথে সাথেই ওই পানি শুষে নিচ্ছে মাটি। ফলে কৃষকদের মাঝে শুরু হয়েছে হাহাকার। অর্থশালী কৃষকরা শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি তুলে আমন ধান রোপণ শুরু করলেও গরিব চাষিরা পড়েছে বেকায়দায়।
কৃষক বুরহান উদ্দিন বলেন, শ্রাবণ মাস আসলে পানিতে জমি থইথই করে কিন্তু এবার পানির অভাবে জমি ফেটে গেলেও এখন পর্যন্ত পানির দেখা পাই নাই। এভাবে যদি চলে তাহলে তো জমি পড়ে থাকবে, আবাদ করা যাবে না।
কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, আমন আবাদের জন্য জমিতে চাষ দিয়েছি। কিন্তু পানির অভাবে আমন রোপন করতে পারছি না। কোথাও এক ফোটা পানি নেই। এ অবস্থায় কীভাবে আমন রোপণ করব দুশ্চিন্তায় আছি।মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা খরার কথা স্বীকার করে জানান, আমন রোপণের সময় চলছে। এসময় বৃষ্টি দরকার। বৃষ্টির অভাবে জমিতে পানি নেই। এবার আমনের আবাদ ১৫ দিন পিছিয়ে যেতে পারে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে পানি না থাকায় বেশিরভাগ জমি অনাবাদি হিসেবে পড়ে আছে। বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকদের আমন বীজতলাগুলো প্রখর রোদে হলুদ বর্ণ ধারণ করতে শুরু করেছে। এসব বীজতলায় চারা রোপণ করলে পর্যাপ্ত ফলন নাও হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।





