
মোঃ নাঈম বিল্লাহ,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
বরগুনার আমতলীতে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিন-রাতের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অসহনীয় গরমের মধ্যে বিদ্যুৎহীনতা জনজীবনে চরম ভোগান্তি ডেকে এনেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনে রাতে ১৪/১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না।
বিদ্যুৎহীনতায় অনেকেই প্রহর গুনছেন কখন আবার কারেন্ট আসবে।উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়-ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে ছোট দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বেচাকেনা কমে গেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক দোকান নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
অন্যদিকে গরমের তীব্রতায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ।বাসা-বাড়িতে যেমন স্বস্তি নেই, তেমনি অফিস-আদালতেও নেমে এসেছে স্থবিরতা। বিদ্যুৎ না থাকায় সরকারি-বেসরকারি অফিসের কাজ ব্যাহত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ব্যাংকিং সেবাগ্রহীতারা। বিদ্যুৎ না থাকায় এবং জ্বালানি তেলের সংকটে অনেক ব্যাংকে জেনারেটর চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে লেনদেনসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবা ব্যাহত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা।
আমতলী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ৪ লাখ মানুষ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চলমান এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা।
এসএসসি পরীক্ষার্থী আবির, সিয়াম, অরুনা আক্তার জানায়, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে ঠিকমতো পড়াশোনা করা সম্ভব হচ্ছে না, যা তাদের পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত করছে। রাতে অনেকবার বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে পড়াশোনায় খুব ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত এর সমাধান দরকার।
অন্যদিকে,দিনভর কঠোর পরিশ্রমের পর বিদ্যুৎ না থাকায় স্বস্তি পাচ্ছেন না নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। গরমে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাড়ি ফিরেও তারা পাচ্ছেন না বিশ্রামের সুযোগ।
পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুত সমিতির আমতলীর উপকন্দ্রে সূত্রে জানাগেছে, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুত পাওয়া যাচ্ছেনা। যতটুকু পাওয়া যাচ্ছে তাই দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুত সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে।





