
মোঃ মনিরুল ইসলাম খান,নিজস্ব প্রতিনিধি ময়মনসিংহ
আস্থা ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ এর সি.ও.ও. এম.এ মালেক সিধলা ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশত যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আস্থা ফিড ইন্ডাস্ট্রিজের বিভিন্ন ইউনিটে চাকরি দিয়েছেন তাদের। বর্তমানে সমাজের জন্য শিক্ষিত যুবকের বেকারত্বের সমস্যাটাই বড় সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। একজন যুবকের কাছে চাকরিটা এখন সোনার হরিণ। সেই চাকরিটা যে তাকে দিবে, সে তার কাছে মহামানব। এম.এ মালেক সাহেব তার নিজ ইউনিয়ন সিধলার মানুষের পাশে দাড়িয়ে যে কাজটি করছে। এতে করে এই জনপদের মানুষের কাছে তিনি মহামানব। আজকে তার দেওয়া প্রায় ৫০ চাকরিজীবী পরিবার সুখে বসবাস করছে।
এম.এ মালেক এই জনপদের মানুষের পাশে থাকতে “গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্প এন্ড এসোসিয়েশন” প্রকল্প চালু করেছেন। যার পরিচালক এম.এ মালেক নিজেই। এই অঞ্চলের আর্তসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্প এন্ড এসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। নিজ ইউনিয়নের মানুষের পাশে থাকতে মুখিয়ে থাকেন এই মানুষটি। এলাকাবাসী উনার কর্মকান্ডে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এছাড়া তিনি এলাকার পাঠাগার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন। ইতিমধ্যে তিনি বালিয়াপাড়া গ্রামে হাজী আঃ লতিফ স্মৃতি পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই পাঠাগারটি সর্ব সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। গ্রামের প্রবীন-নবীন সকলেই এই পাঠাগারে বসে বিভিন্ন ধরনের বই পড়েন। এছাড়া কবুলেন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়েও একটি পাঠাগার করে দেন এম.এ মালেক। বিভিন্ন স্কুলে ধারাবাহিকভাবে পাঠাগার তৈরী করবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।
কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ সমাজসেবায় “বীরাঙ্গনা সখিনা” অ্যাওয়ার্ড পান এম.এ মালেক। বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড কমিটির সাধারণ সম্পাদক রায়হান উদ্দিন সরকার জানান, বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ও গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ইলেক্টোরাল ভোটিং সিস্টেমের মাধ্যমে বিজয়ীদের মনোনীত করা হয়েছে। ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার “দি ইলেক্টোরাল কমিটির ফর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড” র উদ্যোগে ২০১২ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ও গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ এই অ্যাওয়ার্ড চালু হয়।
এম এ মালেক বাংলাদেশ পোল্ট্রি শিল্পে অতি পরিচিত, সজ্জন, সদালাপী, পরিশ্রমী, নিরহংকার, চারী একজন মানুষ। ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার অধীনস্থ বালিয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রণ করেন জনাব এম এ মালেক। উনার পিতা হাজী আব্দুল লতিফ। ১৯৯১ সালে এসএসসি পাশ করার পর ময়মনসিংহের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নাসিরাবাদ কলেজে বাণিজ্য বিভাগে ভর্তি হন। যথাসময়ে ১৯৯৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর ১৯৯৫ সালে উক্ত কলেজ হতে বাণিজ্য বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করে আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে একাউন্টিংয়ে মাস্টার্স এ ভর্তি হয়ে, পুরাণ ঢাকায় বোনের বাসায় বেড়াতে আসেন। ইত্তেফাক দেয়াল পত্রিকা থেকে চাকুরীর বিজ্ঞপ্তি দেখে, একাউন্ট অফিসার হিসেবে চাকুরী হয়ে যায়। ১৯৯৬ সালের ২৫ মে তাকে সাভারের ফুলবাড়িয়াছ বেলী চিকেনের মূল অফিসে পোস্টিং দেয়া হয়। সাভার যাওয়ার পর দেখতে পেলেন প্রচুর লোকজন কাজ করছে। বেলী চিকেনের তখনকার জিএম মি. বাসেত এবং চাঁফ একাউনটেড সুবল বাবু বিভিন্নভাবে পরীক্ষা নিলেন। তার সততায় মুগ্ধ হয়ে হাতে-কলমে অনেক কাজ শিখিয়ে নিলেন। শুরু হলো পথচলা। পেশাগত জীবনে অবিরাম ছুটে চলার প্রতিষ্ঠানটিকে দাঁড় করাতে কঠোর পরিশ্রম করতে শুরু করলেন। যেখানে ব্রিডার ফার্ম, ফিড মিল, অফিস, স্টাফ কোয়ার্টার, হ্যাচারী বিল্ডিং এক এক করে ৫টি কন্ট্রোল হাউজ সেটআপ, আর জেমস্ ওয়ে কোম্পানীর ৩টি ইনকিউবেটর মেশিন ইন্সটল করে এক পর্যায়ে তিনি এই বেলী হ্যাচারীর ইনচার্জ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন।
বাবার ইচ্ছায় পেশাগত জীবনের পাশাপাশি ২০০৭ সালে এমবিএ সম্পন্ন করেন এম এ মালেক। বেলী হ্যাচারীতে কর্মরত থাকা অবস্থায় এমন কোন সেক্টর নেই, যেখানে তিনি কাজ করেননি। যেমন, ভ্যাকসিনেশন, ব্রুডিং, ডিবেকিং, লিটার ম্যানেজমেন্ট, খাদ্য তৈরি, চিকস্প্যাকিং, ডিওসি এর ভ্যাকসিনেশন, ফিড ফর্মুলেশন ইত্যাদি সকল কাজের সাথে ঘনিষ্টভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। বলতে গেলে তিনিই ছিলাম ঐ সময়ের জন্য সফল প্রোডাকশন ম্যানেজার। উনার প্রোডাকশনে যথেষ্ট আইডিয়া বা দক্ষতা ছিল। যার ফলে তিনি আস্থা ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর সি.ও.ও হিসেবে নিয়োগ পান। কঠোর পরিশ্রম তার জীবনকে বদলে দেয়।













