
মোঃ আনিসুজ্জামান হৃদয়,বিশেষ প্রতিনিধি পূর্বধলা নেত্রকোনা
ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থানাধীন ডৌহাখলা সাকিনের আব্দুস সোবানের মেয়ে সোনিয়া আক্তার সুইটি। অনুমান ১ বছর যাবত বৃদ্ধ নানা-নানীর সেবা যত্ন করার জন্য নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা থানাধীন খলিশাউড় ইউনিয়নের রাজিবপুর গ্রামে তার নানার বাড়িতে বসবাস করত। গত ১০/০৩/২০২৪ খ্রিঃ দিবাগত রাত অনুমান ১২.৩০ ঘটিকায় সোনিয়া আক্তার সুইটির নানা মোঃ আবুল কাশেম (৭০) বাজার হতে এসে প্রতিদিনের ন্যায় রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়ে। এ সময় ভিকটিম সোনিয়া আক্তার সুইটি প্রকৃতির ডাকে সারা দেওয়ার জন্য টয়লেটে যাবে বলে জানায়। এ কথা শোনার পর মোঃ আবুল কাশেম ঘুমিয়ে পড়ে। ১১/০৩/২০২৪ইং তারিখ ভোর অনুমান ০৬.০০ ঘটিকায় সোনিয়া আক্তার সুইটির মরদেহ তার নানার বসত ঘরের সামনের খোলা বারান্দার বাঁশের ধরনার সাথে ওড়না দ্বারা ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশকে সংবাদ দিলে পূর্বধলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিম সোনিয়া আক্তার সুইটির লাশ উদ্ধার করে। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের পিতা আব্দুস সোবান বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করলে পূর্বধলা থানার মামলা নং-১১, তারিখ- ১০/০৩/২০২৪ খ্রিঃ, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড রুজু করা হয়। মামলার রুজুর পর নেত্রকোনা জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মোঃ ফয়েজ আহমেদ পিপিএম-সেবা এর দিক নির্দেশনায় গোপন সংবাদ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে পূর্বধলা থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম অভিযান পরিচালনা করে উক্ত ঘটনায় জড়িত আসামী মোঃ এনামুল হক (২২), পিতা-মৃত মঞ্জুল হক, সাং-খলিশাপুর (বনপাড়া মালবাড়ী), ইউপি-খলিশাউড়, থানা- পূর্বধলা, জেলা- নেত্রকোণাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ এনামুল হককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তার সাথে ভিকটিম সোনিয়া আক্তার সুইটির পূর্বে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক থাকা অবস্থায় ভিকটিম সোনিয়া আক্তার সুইটি ইরাক প্রবাসী জনৈক শরিফুল এর সাথে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক তৈরী হয় এবং পারিবারিকভাবে বিবাহের কথাবার্তা হয়। ইরাক প্রবাসী শরিফুল হকের সাথে ভিকটিম সোনিয়ার আক্তার সুইটির বিবাহের কথাবার্তা চূড়ান্ত হওয়ায় আসামী মোঃ এনামুল হক তা মেনে নিতে না পেরে ভিকটিম সোনিয়া আক্তার সুইটির প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে সুযোগ খুঁজতে থাকে। অতঃপর ঘটনার দিন ১০/০৩/২০২৪খ্রিঃ তারিখ সময় রাত অনুমান ১২.৩০ ঘটিকার পর আসামী এনামুল হক ভিকটিম সোনিয়া আক্তার সুইটিকে বাড়ী থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী অনুমান ২০০ মিটার দূরবর্তী রাজিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের দক্ষিণ পূর্ব কোণে ডেকে নিয়ে বিভিন্ন প্রকার আলাপ আলোচনা করে।
আলাপ আলোচনার একপর্যায়ে আসামী মোঃ এনামুল হক ভিকটিম সোনিয়া আক্তার সুইটির গায়ে থাকা ওড়না গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর লাশ ভিকটিমের নানা মোঃ আবুল কাশেম এর পূর্ব দুয়ারী টিনের বসত ঘরের সামনের খোলা বারান্দার বাঁশের ধরনার সাথে ওড়না দ্বারা ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায়।













