নানা অনিয়ম দুর্নীতিতে ভরপুর কক্সবাজার জেলা কারাগার

0
146

ছৈয়দুল আমিন সাঈদ,কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি

মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে নানা সুবিধা। সরকারি মোবাইল মাদক করাবারিদের ভাড়া দিয়ে দৈনিক আড়াই লাখ টাকা আত্মসাৎ। কেন্টিনে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি টাকা যাচ্ছে নিজেদের ফান্ডে!

পর্ব ১, কক্সবাজার জেলা কারাগার এখনোও অনিয়ম দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায়। যেমনটি বলা হয় স্লোগানে রাখিব নিরাপদ দেখাব আলোর পথ। কিন্তু আলোর পথ দেখানোর কিছুই নেই ভিতরে। কারাগারের ভিতরকার অবস্থা যে কেউ না গিলেই অজানা থেকে যায়। এই কারাগারে একেকটি কর্মকর্তা কর্মচারী পোস্টিং মানেই প্রতিজনের কাছে সোনার হরিণ। যেটি আপনি বাহিরে থাকলে বুঝতে পারবেন না। আর এসবকে ঘিরে নানা ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন কারাবন্দী মানুষগুলো। রক্তচোষা দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কর্মচারীদের কাছে প্রতিনিয়ত জিম্মি হতে হচ্ছে বন্দীদের। তারা কারাগারকে নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে বসেছে। নেই কোন এমন অনিয়ম তারা করছেনা। তবে এসব অনিয়ম দুর্নীতি করার পরেও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কোন টনকনড়া দেয়নি।

সেল ও ওয়ার্ড বাণিজ্য, যেমনটি একজন বন্দী প্রথমত কারাগারে গিলেই তার সমস্ত বায়োডাটা নেয়ার পর তার উপর চলে মানষিক চাপ সৃষ্টি। আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী হলে নেয়া হয় সেলে। এরপর দেয়া হয় নানা ধরনের প্রস্তাব। ন মোটা অংকের টাকা দিলে সেল থেকে বের করে দেয়া হবে সাধারণ ওয়ার্ডে। যতদিন পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী টাকা টাকা না পাই ততদিন পর্যন্ত রেখে দেয়া হয় সেলে। সবমিলিয়ে এই সেল বানিজ্য থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে মাসে ৫০ লাখ টাকারোও বেশি। পাশাপাশি আমদানি ওয়ার্ড ও ভিআইপি ওয়ার্ড নামে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড রয়েছে। এসব ওয়ার্ড থেকে প্রতিজনের কাছ থেকে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা নেয়ারোও অভিযোগ রয়েছে।

কারা হাসপাতালের ভিন্ন চিত্র, এদিকে হাসপাতালে রোগীদের জায়গায় মাদক ব্যবসায়ীদের কেবিন ভাড়া দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে মাসে কয়েক লক্ষ টাকা। প্রতি মাসে এইসব কেবিন থেকে দশ থেকে পনের হাজার টাকারও বেশি ভাড়া তুলে । যেখানে শুধু মাত্র রোগীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এই কেবিন। সেখানে মাদক ব্যবসায়ীদেরকে ফাইভ স্টার হোটেলের দামে ভাড়া দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে জেল সুপার ও জেলার মিলে। পাচ্ছেনা কারাবন্দী রোগীদের সেবা। এই কারা হাসপাতালের ঔষুধ বাহিরে বিক্রি করে মাসে কয়েক লক্ষ টাকার সঞ্চয় পত্র করে নিচ্ছে এই অসাধু কর্মকর্তারা। হাসপাতালের রোগীদের জন্য রান্না করা খাবারেও নানা ধরনের লুটপাট।

মাদক কারবারিদের হাতে মোবাইল বানিজ্য, কক্সবাজার জেলা কারাগারে সতের বিশটিরও অধিক মোবাইল রয়েছে। যেই মোবাইলগুলো প্রতি সপ্তাহে বন্দীরা বন্দীদের ঘরে ১০ টাকায় ১০ মিনিট করে যোগাযোগ করার সূ ব্যবস্থা রয়েছে। সেই মোবাইলগুলো এখন ইয়াবা মাফিয়াদের বাণিজ্যিক হিসেবে বিক্রি করে দৈনিক ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা করে নিচ্ছে জেল সুপার। ইয়াবা ব্যবসায়ীরা এসব মোবাইল এখন ৫ মিনিটে ২০০ টাকা করে বিক্রি করে ঘন্টার পর ঘন্টা যোগাযোগ করে। কিন্তু সপ্তাহে একবার যোগাযোগ করার কথা থাকলেও এখন টাকার বিনিময়ে প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা যোগাযোগ করার ব্যবস্থা রয়েছে। এসব মোবাইলেগুলো থেকে মাদক ব্যবসায়ী ও নানা অপরাধীরা ঘন্টার পর ঘন্টা যোগাযোগ করে কৌশলে ইয়াবা ও বিভিন্ন অপরাধ সংগঠিত করছে। তবে ডিআইজি ও উর্ধতন কর্মকর্তা যদি কারাগারে পরিদর্শন করতে আসে তখন সবকিছুই স্বাভাবিক হয়ে যায়।

বন্দীদের খাদ্যেও নানা অনিয়ম, প্রতিদিন বন্দীদের জন্য যে পরিমাণ খাদ্য তালিকা রয়েছে সেই পরিমাণ খাদ্যের কোন কিছু দেখেনি কারাবন্দীরা। নিয়মিত পাঙাশ মাছ ও অকেজো সবজি দিয়ে চালিয়ে নিচ্ছে জেলে কারাগার। আর এসব থেকেও মাঝে মাঝে প্রতি মাসে আট থেকে দশটি বরাদ্দ তালিকায় থাকা ডায়েট কেটে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে জেল সুপার ও জেলারের বিরুদ্ধে। এসব খাতে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা নয়ছয় করে ভাগবাটোয়ারা করে এই দুই কর্মকর্তা। তবে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে নানা সময় গড়ে বিপত্তি।

ক্যান্টিন বাণিজ্যেও আরেক ভয়াবহ অনিয়ম, প্রতিমাসে ক্যান্টিন দায়িত্ব পরিবর্তন করে দেওয়া হয় ভিন্ন ভিন্ন কারারক্ষীদের। তবে কে আগে পাবে কে পরে পাবে সবকিছু সিদ্ধান্ত হয় জেল সুপার ও জেলারের মাধ্যমে। তবে এসব দায়িত্ব নিতে টাকার মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় মরিয়া কারারক্ষীরা। এদিকে প্রতিটি পণ্যের মূল্য তালিকার চেয়ে দুইগুণ তিনগুণ বৃদ্ধিতে বিক্রি হয় নানা প্রয়োজনীয় পণ্য। ক্যান্টিনে রান্না করা এক কেজি গরুর মাংস ৩ থেকে, ৪ হাজার টাকা। ছুরি শুটকি ২ থেকে তিন হাজার টাকা। নানা ধরনের রান্না করা তরকারির দামও অতিরিক্ত নিয়ে বন্দীদের কাছ থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সুপার জেলার সেন্ডিকেট।

তবে এবিষয়ে কারাগার থেকে সদ্য জামিন পাওয়া নুরুল ইসলাম বলেন কারাগারে বাহিরে থাকলে বুঝা যাবেনা, ভিতরে কেমন দুর্নীতি হয়। ভিতরে মোবাই বাণিজ্য, কেন্টিনের অতিরিক্ত দাম, ক্যান্টিনে আলাদা তরকারির দামও যেন আকাশ ছোঁয়া। তবে এবিষয়ে ভিতরে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাইনা। নানা অসংগতি নিয়ে সাংবাদিকরা নিউজ করলেও মনে হয় টাকা দিয়ে নিজেদের অনিয়ম দুর্নীতির ফিরিস্তি রফাদফা। তবে এসব বন্ধ না হলে সাধারণ বন্দীদের রক্তচোষে নিবে। দায়িত্বরত এসব অসাধু কর্মকর্তাদের যদি অপসারণ করা না হয় তাহলে অনিয়ম অব্যবস্থাপনাসহ নানা দুর্নীতির আঁকড়ায় পরিনত হবে।

এবিষয়ে জেলার সওকত মিয়া’র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব ভূয়াঁ কথা, এবিষয়ে আমার কোন জানা নেই। তবে আপনার জানা থাকলে সঠিক প্রমাণ নিয়ে অফিসে আসেন। বলে মোবাই কেটে দেন।

তবে এদিকে ২৩ মার্চ শনিবার কক্সবাজার জেলা কারাগারে গিয়ে সরাসরি জেল সুপার শাহ আলমের কাছে গিলে তিনি প্রথমে নিজেকে ব্যস্ত আছে বলে তাড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করছেন। পরিশেষে সুবেদার সোহাগের মাধ্যমে ভিতরে নিয়ে গেলেও জেল সুপারের মুটিভেশন তেমনটি ভালো দেখা যায়নি। পরে সাংবাদিকদের বিকাশ নাম্বার খুঁজে নেন এই কর্মকর্তা। এদিকে প্রতিনিয়ত মোবাইলে এবং ওয়াটসঅ্যাপে কল দিলেও জেল সুপার শাহ আলমের বক্তব্য দিতে কোন রেসস্পন্স দেখা যায়নি।


নানা অনিয়ম দুর্নীতিতে ভরপুর কক্সবাজার জেলা কারাগার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here