দক্ষিণ এশিয়ার প্রখ্যাত সাধক শ্রীশ্রী অচ্যুতানন্দ ব্রহ্মচারীর ২৭ তম তিরোধান উৎসব উপলক্ষে যজ্ঞানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

মোঃ আসাদুজ্জামান হিরন,বিশেষ প্রতিনিধি তজুমদ্দিন ভোলা

দক্ষিণ এশিয়ার প্রখ্যাত সাধক শ্রীশ্রী অচ্যুতানন্দ ব্রহ্মচারীর ২৭ তম তিরোধান উৎসব উপলক্ষে ৫ দিন ব্যাপী মহানামা যজ্ঞানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সাধকের জন্মস্থান ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের আড়ালিয়া গ্রামে অনিল স্বরুপ আশ্রম ও সমাধী মন্দিরে ১৯ ফেব্রুয়ারী থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ভোলা জেলার শম্ভুপুরে জন্মগ্রহনকারী অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী প্রখ্যাত এই সাধকের নাম শ্রী শ্রী অচ্যুতানন্দ ব্রহ্মচারী (অনিল বাবাজী)।  গত ২৭ বছর আগে এই মহান সাধক এর তিরোধান হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম এই মঙ্গল যজ্ঞানুষ্ঠানে প্রতি বছর লক্ষাধীক ভক্ত ও শিষ্যের উপস্থিতি হয়ে থাকেন। তিরোধান থেকে শুরু করে প্রতি বছর অনিল স্বরুপ আশ্রম ও সমাধী মন্দিরে বিশেষ করে বাংলাদেশের সকল ডিস্ট্রিক ও ভারত সহ বিভিন্ন রাষ্ট্র থেকে তার তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠানে লক্ষ লক্ষ লোকের সমাগম ঘটে, বসে কয়েক কিলোমিটার ধরে বিশাল মেলা। এই মেলায় সকল ধর্মের লোকদের কেনাকাটা করতে দেখা যায়। সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকায় যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাবসায়ীরা এসে এই মেলাতে অস্থায়ী দোকান দিয়ে ব্যাবসা করে থাকেন এখানে খাট, আলমারি, কসমেটিক সহ সকল ধরনের মালামাল কম দামে বিক্রি হওয়ায় বিভিন্ন যায়গা থেকে ক্রেতারা ছুটে এস ভিড় করে থাকেন। প্রতিবছর এখানে যেন এক আনন্দ উৎসব জমে উঠে।প্রখ্যাত এই সাধকের স্মৃতি ধারন করে রাখতে ওনার শিষ্য ও ভক্তরা মিলে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় তার নামে ১১টি ও ভারতে ৭টা মন্দির স্থাপন করেছেন।

প্রতি বছরের ১০ ফাল্গুন সাধক প্রভুপাত শ্রী অচ্যুতানন্দ ব্রহ্মচারীর মৃত্যু দিবসে এই বিশেষ উৎসব পালিত হয় বলে আয়োজক কমিটি জানিয়েছে।

আয়োজিত মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও তজুমদ্দিন উপজেলা পূজা উদযাপন ও কল্যাণ ফন্টের সভাপতি ও অরবিন্দ দে টিটু জানিয়েছেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বৃহৎ এ উৎসবকে ঘিরে প্রতিবছর পুণ্যার্থীদের ঢল নামতে শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও নেপাল, ভুটান ও ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকেও হাজার হাজার ভক্ত এসে ভিড় জমায় এই মন্দির প্রাঙ্গণে।

দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম এ উৎসবকে কেন্দ্র করে তিনটি মন্দির প্রাঙ্গণ তখন লাখো ভক্তের পাদচারণায় মুখরিত থাকে। পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক মন্দিরে আগত ভক্তদের সেবায় দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করে।

প্রতি বছর ভক্তদের জন্য নান্দনিক দৃষ্টিনন্দন বৃন্দাবন নির্মাণ করা হয়। সেখানে সত্য, ত্রেতা,দাফর ও কলি- এ চার যুগের নিদর্শনস্বরূপ শতাধিক বিগ্রহের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় মনিষীদের নানান প্রতিকৃতি। সেখানে ভক্তরা প্রার্থনা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করে থাকেন।

এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন আন্তরিক ভাবে সহযোগিতা করেন।


দক্ষিণ এশিয়ার প্রখ্যাত সাধক শ্রীশ্রী অচ্যুতানন্দ ব্রহ্মচারীর ২৭ তম তিরোধান উৎসব উপলক্ষে যজ্ঞানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

0FansLike
3,912FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles