সাব-রেজিস্ট্রারের নির্দেশেই ঘুষ নিয়েছি: চট্টগ্রাম আদালতে ২ কর্মচারী

0
9

চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের সাব-রেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশেই দলিল নিবন্ধনের জন্য দুই লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ওই কার্যালয়ের দুই কর্মচারী।

মঙ্গলবার ঘুষের টাকাসহ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বুধবার রাতে তারা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর হোসেনের আদালতে জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দি দেয়া দুই কর্মচারী হলেন পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশ।

আদালত সূত্রে জানা যায়, রূপণ দাশ তার জবানবন্দিতে বলেন, তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে ওই কার্যালয়ে কর্মরত। যে দলিল নিবন্ধনকে কেন্দ্র করে দুদকের অভিযান হয়, ওই দলিলের সরকারি ফি ছিল ১৫ হাজার টাকা। এরপরও দলিলদাতার কাছ থেকে বাড়তি দুই লাখ টাকা নেয়া হয়। এর মধ্যে প্রথমে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা নেয়া হয়। বাকি ২০ হাজার টাকা কমিশন হিসেবে নেয়ার কথা ছিল। দলিলদাতাদের একজন উপস্থিত হতে না পারায় ওই টাকা পরে বাসায় গিয়ে নেয়ার কথা ছিল।

রূপণ দাশ দাবি করেন, দলিলে কোনো ত্রুটি না থাকলেও সাব-রেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশেই অতিরিক্ত দুই লাখ টাকা নেয়া হয়।

অপর কর্মচারী ফারুক ইসলাম তার জবানবন্দিতে বলেন, সাব-রেজিস্ট্রারের নির্দেশে তিনি দুই লাখ টাকা ঘুষ নেন। ওই টাকা উমেদার রূপণ দাশের মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হচ্ছিল। এর মধ্যেই মঙ্গলবার বিকেলে দুদকের একটি দল পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে অভিযান চালায়। এ সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং ঘুষের দুই লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

দুদকের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) রেজাউল করিম বলেন, তিন আসামির মধ্যে সাব-রেজিস্ট্রার ছাড়া ফারুক ইসলাম ও রূপণ দাশ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের জবানবন্দিতে সাব-রেজিস্ট্রারের নির্দেশে দলিল নিবন্ধনের নামে ঘুষ নেয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।

জবানবন্দি গ্রহণ শেষে সাব-রেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান, ফারুক ইসলাম ও রূপণ দাশ—তিনজনকেই কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।


সাব-রেজিস্ট্রারের নির্দেশেই ঘুষ নিয়েছি: চট্টগ্রাম আদালতে ২ কর্মচারী

Share this news as a Photo Card

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here