
শাহরিয়ার রহমান শফি,বিয়ানীবাজার (সিলেট) প্রতিনিধি:
দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে গোলাপগন্জ উপজেলাধীন বহরগ্রাম-শিকপুর সেতু নির্মাণে প্রস্থাবিত বাজেট পাস হয়েছে। ইতোমধ্যে সেতুটি নির্মাণের জন্য ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনের সংসদ সদস্য, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের বিশেষ সহকারী,সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন।
জানা যায়, পূর্ব সিলেটে যাতায়াতের অন্যতম সহজ সংযোগ রাস্তা হচ্ছে গোলাপগঞ্জ,আমুড়া ভায়া বিয়ানীবাজার সড়ক। এখানে কুশিয়ারা নদীর উপর ২০০৫ সালে বহরগ্রাম-শিকপুর খেয়াঘাটে ফেরি সার্ভিস চালু হলে গোলাপগঞ্জের কুশিয়ারা তীরবর্তী অঞ্চলের জনসাধারণ সহজেই বিভিন্ন ধরনের যানবাহন নিয়ে যাতায়াত করতেন। দীর্ঘ এক যুগে বার বার যান্ত্রিক কারণে ফেরি সার্ভিস বন্ধ হলে দু’একদিনের মধ্যে আবার চালু হতো। কিন্তু কুশিয়ারা নদীর উপর চন্দরপুর-সুনামপুর ব্রিজ নির্মাণের পর ২০১৫ সালে ইজারা সংক্রান্ত জটিলতার কথা উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষ ফেরি সার্ভিস বন্ধ করে দেন। এতে কুশিয়ারা তীরবর্তী অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তির মধ্যে পড়েন। এরপর আর চালু হয়নি ফেরিটি। এতে এলাকার লোকজন ছোট ছোট নৌকা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কুশিয়ারা নদী পারাপার হচ্ছেন।
২০১১ সালের ৫ ফেরুয়ারি তৎকালীন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বহরগ্রামে এক জনসভায় ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস প্রদান করেন। এরপর এই ব্রিজটি নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর দীর্ঘ ৮ বছর ব্রিজটির নির্মাণ কাজের কোন অগ্রগতি দেখা যায়নি। ২০২০ সালের আগস্ট মাসে এই ব্রিজটির কাজ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সিলেট সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের একটি টিম নির্মাণস্থল পরিদর্শনে আসেন। এতে নতুন করে এই এলাকার মানুষ ব্রিজ নির্মাণের স্বপ্ন দেখতে থাকেন।
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গত বুধবার ব্রিজ নির্মাণের জন্য ১৪০ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই খবর গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারবাসী মানুষজনের কাছে পৌঁছলে তারা খুবই আনন্দিত হন এবং ব্রিজ নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।





