
মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি:
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মাদারীপুরের ডাসারে দু’পক্ষের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে করে উভয় পক্ষের মহিলাসহ কমপক্ষে ৭ জন আহত হয়েছে। আহতদেরকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে এই সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে ভূক্তভোগী পরিবার।
আজ রোববার সকালে থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুইজন আসামীকে গ্রেফতার করেছেন।
অপরদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম সরেজমিনে গিয়ে উভয় পক্ষের মাঝে দিক নির্দেশনা মূলক বক্তব্য প্রদান করেন। এবং এ ধরনের ঘটনা যাতে করে পূনরায় না ঘটে সেদিকে খোয়াল রাখার জন্য উপস্থিত সবাইকে অবগত করেন।
পুলিশ, এলাকা ও প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের বেতগ্রামে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ঐ অনুষ্ঠান দেখতে যান একই গ্রামের বেশ কয়েকজন যুবক। পরে সেখানে বসে উভয় পক্ষের সাথে প্রথমে বাক-বিতন্ডার সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে নাদিম, শফিকসহ বেশ কয়েকজনকে প্রতিপক্ষরা মারধর করে। পূণঃরায় এর জের ধরে গত শুক্রবার বিকেলে একই গ্রামের কদমপট্টি নামকস্থানে বসে সাব্বির, আসিব, আফজাল, লিমনসহ বেশ কয়েকজন মিলে প্রতিপক্ষের লোকজনের উপর হামলা চালায়। এতে করে অভি সরকার, অভিজিৎ, অমিত, ব্রত ও রিনাসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৭ জন লোক আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
খবর পেয়ে মাদারীপুর জেলা পরিষদের সদস্য মীর মামুন অর রশিদ,সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রীর ভাতীজা সৈয়দ বাবু এবং বিশিষ্ট সমাজ সেবক মিহির হালদার তাৎক্ষনিক ঘটনা স্থানে গিয়ে উক্ত ঘটনা নিরসনের চেষ্টা করেন এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা করেন।
উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার পরার্মশ দেন, মীর মামুন। যাহাতে এ ঘটনাকে পুঁজি করে কেউ এলাকার সম্প্রীতির বন্ধন নষ্ট না করতে পারে। আমরা সমাজের সকল ধর্মের লোক সম্প্রীতির বন্ধনের মাধ্যমে সহবস্থানে চলে আসছি।
মিহির হালদার বলেন, ঘটনা স্থানে এসে,আমি আমার গাড়িতে করে আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পৌছে দেই। আমরা অসম্প্রদায়িক চেতনায় এলাকার সকল ধর্মের লোকের সাথে মিলেমিশে একসাথে বসবাস করে আসছি। এটাকে অনেকের পছন্দ হয় না,তারা একটি দ্বন্দের সৃষ্টি করে ,শান্তি প্রিয়সমাজে,অশান্তিসৃষ্টি করার পাঁয়তারা করে আসছে।
এদিকে এই সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে ভূক্তভোগী অমল সরকার। পরে জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের নির্দেশনায় ডাসার থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাসানুজ্জামান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে আসামী সফিক ও লিমনকে গ্রেফতার করেন। অপরদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম সরেজমিনে গিয়ে উভয় পক্ষের মাঝে দিক নির্দেশনা মূলক বক্তব্য প্রদান করেন। এবং এ ধরনের ঘটনা যাতে করে পূনরায় না ঘটে সেদিকে খোয়াল রাখার জন্য উপস্থিত সবাইকে বলে দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাইলাউ মারমা ও ডাসার থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাসানুজ্জামান প্রমুখ।
ডাসার থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাসানুজ্জামান বলেন, মারামারির ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এবং দুইজন আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।













