
মো. আল মামুন হাওলাদার,বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের বাকেরগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতির অভিযোগে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে পুলিশ। এ মামলায় মো. নাজমুল আলম বজলু (৪৬) নামে এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় অপর ১৮ জনকে পলাতক আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাকেরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. এনামুল হক বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এ মামলায় সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ৬(২), ৮, ৯ ও ১০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পুলিশ বিভিন্ন সূত্রে তথ্য পায় যে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী অনলাইন ও অফলাইনে যোগাযোগের মাধ্যমে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভরপাশা এলাকায় নাজমুল আলম বজলুর বসতঘরে কয়েকজন নেতাকর্মী সমবেত হন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে রাত আনুমানিক ৩টা ৪৫ মিনিটে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় ভোর আনুমানিক ৪টা ৫ মিনিটে নাজমুল আলম বজলুকে আটক করা হয়। অন্যরা পালিয়ে যান বলে মামলায় বলা হয়েছে।
এজাহারে নাজমুল আলম বজলুকে বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও যুবলীগের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার অপর আসামিদের মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী রয়েছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার নাজমুল আলম বজলুকে জিজ্ঞাসাবাদে অন্য আসামিদের নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়। তারা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল করা এবং ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে সেখানে একত্রিত হয়েছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আদিল হোসেন একজনকে গ্রেপ্তার ও মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে মামলায় অভিযুক্ত অন্যদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। পরে সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান বহাল রাখা হয়।













