
মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি:
মাদারীপুরের কালকিনিতে স্থানীয় কোন্দলের জেরে বাঁধার মুখে পড়ে টেন্ডারকৃত একটি রাস্তা প্রায় দুই বছরেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় সীমাহীন জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। এদিকে রাস্তাটি না হওয়া প্রায় ৯টি পরিবার তাদের বাড়ি হতে বেড় হতে পদে-পদে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এবং ইউপি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে আসা রোগীদের পড়তে হচ্ছে মহাবিপাকে। এ বিষয়টি নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিন ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ি জেলা গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে কালকিনি উপজেলার সিডিখান ইউপি স্বাস্থ্য-পরিবার কল্যান কেন্দ্র ও স্থানীয় শাজাহান সিপাহীর বাড়ির ৯০ মিটার রাস্তা নির্মানের জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১২ লক্ষ ৭১ হাজার ১৬৭ টাকার টেন্ডার করেন উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তর। পরে নিয়ম মোতাবেক ঠিকাদার রেজাউর হোসেন তার শ্রমিক নিয়ে ঐ টেন্ডার হওয়া সরকারি রাস্তার কাজ শুরু করতে যান। স্থানীয় কোন্দোলের জের ধরে এ কাজে বাধা প্রদান করেন স্থানীয় প্রভাবশালী মারফত আলী শিকদার, হেমায়েত শিকদার, তুষার শিকদার, তারেক শিকদার, এশাম ও রুবেল শিকদারসহ বেশ কয়েজন।
সরকারি কাজে বাধা দেয়ার ঘটনার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে ঐ সময় প্রভাবশালীদের সঙ্গে স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝে চড়ম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে কালকিনি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর থেকেই ঐ রাস্তা নির্মানের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকাবাসীর যাতায়াতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। রাস্তাটি নির্মান কাজ না হওয়ায় সীমাহিন দুূর্ভোগের ভয়ে সিডিখান স্বাস্থ্য-পরিবার কল্যান কেন্দ্রে রোগী শুন্য হয়ে পড়েছে। অপরদিকে স্থানীয় নাসরিন, মুন্নী খানম ও হাবিব ফকিরসহ ৯টি পরিবার রাস্তা না হওয়ার কারনে প্রতিদিন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। রাস্তার কাজ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে তারা এখন ইউপি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ড্রেনের উপর দিয়ে যাতায়াত করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার প্রতিনিধি বলেন, আমাদের শ্রমিকরা ঐ সময় রাস্তা নির্মানের কাজ করতে গেলে সেখানকার প্রভাবশালীরা মিলে বাধা প্রদান করে এবং শ্রমিকদের মারধর করে। রাতের আধারে আমাদের নির্মান সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায়। তাই তাদের ভয়ে রাস্তার কাজটি আর করা সম্ভব হয়নি।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্বাহী সংসদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপসম্পাদক এসএম সওকাত হোসেন বলেন, আমার নিজ এলাকার গর্ভবতী মা ও বিভিন্ন রোগীদের কথা মাথায় রেখে সিডিখান ইউনিয়ন স্বাস্থ্য-পরিবার কল্যান কেন্দ্রের ও শাজাহান শিপাহীর রাস্তা নির্মানের জন্য আমার নিজের জমি দান করে দিয়েছি। কিন্তু সেই রাস্তা নির্মান করতে গেলে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীরা বাধা প্রদান করে। সেই থেকে রাস্তার কাজটি বন্ধ রয়েছে। আমরা এলাকাবাসী চাই সকল ভয়ভীতি উপেক্ষা করে রাস্তার কাজটি পুনরায় শুরু করা হোক।
অভিযুক্ত রুবেল সিকদার বলেন, আমাদের জায়গার উপর দিয়ে রাস্তার কাজ করতে গেলে আমরা বাধা দেই।
সিডিখান ইউপি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা বলেন, রাস্তাটি এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় আমাদের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গর্ভবতী মায়েরা ও বিভিন্ন প্রকার রোগীর না আসতে পাড়ায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কারন এই রাস্তার অবস্থা খুবই নাজুক। আমাদের দাবি দ্রুত রাস্তা নির্মানের কাজ চালু করা হোক।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল করিম বলেন, উভয় পক্ষের সমন্বয়ের অভাবে রাস্তাটির নির্মান কাজ করা সম্ভব হয়নি। তবে চেষ্টায় আছি রাস্তাটি বাস্তবায়ন করার।





