
মোঃ মেহেদী হাসান,বুড়িচং (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
(৮ জানুয়ারি ২০২৩) রোববার রাত ১১ টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বুড়িচং থানার ওসি মারুফ রহমান। নিহত ব্যক্তি রায়হান শংকুচাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ছাত্র ছিলেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়,রবিবার দুপুরে উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের শংকুচাইল গ্রামের হাফিজ মেম্বারের বাড়ির সৌদি প্রবাসী গিয়াস খানের ছেলে রায়হান খান সহপাঠীদের সাথে পূর্ণমতি সড়ক এলাকায় সেচ পাম্পে গোসল করতে যায়। এমন সময় দুইটি মটরসাইকেলে করে অজ্ঞাত বখাটে ছেলেরা দুইটি কিশোরীকে নিয়ে ওই সড়কে ঘুরতে আসে।সম্ভব্য তারা প্রেমিক-প্রেমিকা হবে।
সড়কের পাশে বখাটে ছেলেরা কিশোরীদের সাথে (অশ্লীলতা) নোংরামি করার সময় রায়হান ও সহপাঠীরা দেখে ফেলেন হাসাহাসি করেন। এই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটেছে। প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ছেলের বাড়ি একই উপজেলার জগতপুর গ্রামের। স্থানীয় নিহতের আত্মীয় সমাজ সেবক তোফাজ্জল হোসেন লিটন খান দৈনিক একুশে নিউজ কে জানান,রায়হান তার সহপাঠী বন্ধু অন্তর, বাবর,সুজন ও ইশরাত খানসহ আরো কয়েকজন বন্ধুদের সাথে পূর্ণমতি এলাকার সড়কের পাশে সেচ পাম্পে গোসল করতে গেলে বখাটে কয়েকজন ছেলে মেয়েদের সাথে নোংরামি করতে ছিলেন। এসব দেখে সহপাঠীরা হাসাহাসি করে এবং প্রতিবাদ করায় লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে রায়হানকে হাত-পা ভেঙে মাথায় প্রচন্ড ভাবে আঘত করে আহত অবস্থায় পাশের ঘুংগুর নদীতে ফেলে দেয়।তখন সহপাঠীরাও আহত হয়।
তখন আহত রায়হানকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকাতে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন। ঢাকা যাওয়ার পথে যাত্রাবাড়ী এলাকায় পৌঁছলে রায়হান মারা যায়। স্থানীয়রা জানান, ঘটনার কারণ জানার জন্য একজনকে আটক করে পুলিশ থানায় নিয়ে গেছে। ময়নাতদন্তের শেষে রায়হানের লাশ শংকুচাইল বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। নিহতের মা রোজিনা আক্তার ও স্বজনদের কান্না কোনো ভাবে থামছে না। পুরো এলাকায় বইছে শোকের মাতাম। তারা রায়হানের হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের চিহৃিত করে দ্রুত গ্রেফতারের মাধ্যমে বিচারের দাবী জানান পুলিশ প্রশাসনের কাছে।
এ বিষয়ে বুড়িচং থানার ওসি মারুফ রহমান উপরোক্ত বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ময়নাতদন্তের শেষে রায়হানের লাশ নিজ বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত ও আইনের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।












