মাদরাসা শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষকদের করণীয়

0
459

মোহাম্মদ ফারুক আজম

জাতি গড়ার কারিগর সম্মানিত শিক্ষকগণ স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের নিমিত্তে আমাদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। এক সময় বেত্রাঘাতের মাধ্যমে লেখা-পড়া আদায় হত। যার পরিণতিতে মেধাবী এবং ধৈর্যশীল শিক্ষার্থীগনই শিক্ষিত হত। বাকি শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়ত, যা ইসলাম এবং বিজ্ঞান কোনটির-ই স্বীকৃতি নাই। পাঠদান হত সনাতন পদ্ধতিতে। শুধু বক্তৃতা ও বই পড়ে শিক্ষার্থীর মেধা বিকাশ এবং সৃজনশীলতা প্রকাশ পেতনা। তাই যুগোপযোগী ও পেশাগত মান উন্নয়নে নিম্নে বর্ণিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

০১। শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের প্রতি পূর্ণ আন্তরিক হতে হবে। ০২। শ্রেণি কক্ষের বাহিরে ও শিক্ষার্থীকে সময় দিতে হবে। ০৩। শ্রেণি কক্ষের প্রবেশের পূর্বে যথেষ্ট প্রস্তুতি নিতে হবে। ০৪। শিক্ষার্থীদেরকে সৃজনশীল মনোভাব তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। ০৫। বিজ্ঞান ক্লাসে প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক – যন্ত্রপাতির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ০৬। আইসিটির ক্লাসসহ ল্যাপটপ এবং আইসিটির যন্ত্রপাতি ব্যবহারে নিশ্চিত করতে হবে। ০৭। প্রয়োজনীয় পরিমান পাঠ সংশ্লিষ্ট শিক্ষার উপকরণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ০৮। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদেরকে শ্রেণীবিন্যাসের মাধ্যমে ক্লাস নিশ্চিত করতে হবে। ০৯। ক্লাসে শিক্ষার্থীদের যথেষ্ট আনন্দ দিতে হবে। ১০। সকল প্রকার ভয়-ভীতি বেত্রাঘাত বন্ধ করতে হবে। ১১। যথাসময়ে ক্লাসের আগমন ও প্রস্থান নিশ্চিত করতে হবে। ১২। প্রদেয় পাঠ ভালোভাবে না বুঝলে বারবার বুঝাতে চেষ্টা করতে হবে। ১৩। পাঠ না বুঝলে রাগ বা বিরক্ত হওয়া যাবে না। ১৪। পিছিয়ে পড়া বা অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবক সমাবেশ করে শিক্ষার্থীদে সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। ১৫। কোন কারণে অভিভাবক সমাবেশ উপস্থিত না হলে মোবাইলে যোগাযোগ বা গৃহ পরিদর্শন করতে হবে। ১৬। শিক্ষক পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ না পেলে ইন-হাউজ ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করতে হবে। ১৭। প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে নিয়মিত মনিটরিং ও মেন্টেরিং করতে হবে। ১৮। শিক্ষক বাতায়নের সদস্য হয়ে নিয়মিত পাঠ আপলোড/ডাউনলোড করতে হবে। ১৯। শিক্ষক নিজে কনটেন্ট তৈরি করার যোগ্যতা অর্জন করে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ২০। শিক্ষার্থীদের আদর্শ সুনাগরিক, বিজ্ঞান মনোস্ক ও সৃজনশীল মনোভাবপন্ন হিসেবে গড়ে তোলার ব্যবস্থা করতে হবে।২১। মাদকাসক্ত ও বাল্য বিবাহের প্রতি নিরুৎসাহী করতে হবে। ২২। পাঠ পরিকল্পনা তৈরি করে পাঠদানের ব্যবস্থা করতে হবে। ২৩। প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়মিত পাঠ পরিকল্পনায় স্বাক্ষর করতে হবে। ২৪। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে বেস্ট পারফর্ম করা শিক্ষকদের বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। ২৫। জাতীয় কার্যক্রম রূপরেখা ২০২১ অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে। উপরে উল্লেখিত কার্যাদি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করলে প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের মান উন্নয়ন করা সম্ভব। আর এ কাজগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জেলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন পূর্বক অনিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মের আওতায় নিয়ে আসা। সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ন্যায় বেসরকারী শিক্ষকদেরকে সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। যেমন- উৎসব ভাতা, বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা প্রদান করা। শিক্ষার মানোন্নয়নে উপজেলা ভিত্তিক বৎসরে ২ বার এবং জেলা শিক্ষা অফিস কর্তৃক বৎসরে ১ বার কর্মশালা করা দরকার। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিতদেরকে পুরস্কার বিতরণের সময় পর্যাপ্ত ছাত্র ও শিক্ষকদের উপস্থিতি থাকা প্রয়োজন। যাতে অন্যান্য ছাত্র শিক্ষক উৎসাহিত হয়। প্রতিষ্ঠান সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে বছরের ২ বার মনিটরিং ফরমের মাধ্যমে জবাবদিহি মূলক অধিবেশন করা এবং পিছিয়ে পড়া প্রতিষ্ঠান সমূহকে সংশোধনের জন্য সময় বেঁধে দেয়া। সংশোধন না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় পূর্বভাবশালী ব্যক্তিদের নেতিবাচক হস্তক্ষেপ মুক্ত করে শিক্ষা প্রশাসনের সরাসরি তদারকির মাধ্যম পরিচালিত হলে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে।

লেখক-
মোহাম্মদ ফারুক আজম
অধ্যক্ষ,হাজিখালী মোহাম্মাদিয়া (ডিগ্রী) মাদরাসা, পটুয়াখালী সদর, পটুয়াখালী।


মাদরাসা শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষকদের করণীয়

Share this news as a Photo Card

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here