
প্রসেনজিত বড়ুয়া,উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
গাজীপুরের আলোচিত শ্রমিক নেতা শহিদুল ইসলাম শহীদ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ২নং আসামী আকাশ র্যাব-১৫ কর্তৃক গ্রেফতার। গত ২৫ জুন ২০২৩ খ্রিঃ সন্ধ্যা ০৭.৩০ ঘটিকায় বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কাস ফেডারেশন এর গাজীপুর জেলা সভাপতি শহিদুল ইসলাম শহীদ শ্রমিকদের দুই মাসের বকেয়া বেতন ও বোনাস আদায়ের বিষয়ে মালিক পক্ষের সাথে কথা বলে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হন। বিষয়টি নিয়ে দেশ এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ব্যাপক সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় ওঠে। দেশ ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠনসমূহ ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার ও হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে মানববন্ধন এবং স্মারকলিপি প্রদান করে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কাস ফেডারেশন এর কেন্দ্রীয় সভাপতি বাদী হয়ে গাজীপুর টঙ্গী পশ্চিম থানায় এজাহারনামীয় ০৬ জন ব্যক্তিসহ অজ্ঞাতনামা ৫/৭ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন এবং পরবর্তীতে এই মামলাটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়। ঘটনার পরবর্তীতে পুলিশের পাশাপাশি র্যাবও ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার সহযোগিতায় মামলার এজাহার নামীয় ২নং আসামী মোঃ আকাশ আহমেদ বাবুল’কে গত মধ্যরাতে র্যাব-১৫ কক্সবাজারের একটি আভিযানিক দল কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল জোন এলাকা থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
নিহত শ্রমিক নেতা শহিদুল ইসলাম শহীদ দীর্ঘ ২০-২৫ বছর যাবত শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করে আসছে। গত ২১ জুন ২০২৩ খ্রিঃ গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী সাতাইশ এলাকার বিজিএমইএ এর অন্তর্ভূক্ত প্রিন্স জ্যাকার্ড সোয়েটার লিমিটেড নামে তৈরী পোষাক কারখানায় কর্মরত প্রায় এক হাজার শ্রমিক দুই মাসের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। বিক্ষোভের মুখে কর্তৃপক্ষ ২৫ জুন ২০২৩ খ্রিঃ বেতন পরিশোধের তারিখ দিয়ে নোটিশ দেয়। সে আশায় শ্রমিকরা ২৫ জুন ২০২৩ খ্রিঃ রবিবার সারাদিন গেইটে অবস্থান করে। কিন্তু মালিকপক্ষ বেতন পরিশোধ করেননি। সন্ধ্যা ০৬ টার দিকে শ্রমিকরা আবার বিক্ষোভ শুরু করেন এবং দাবি আদায়ের সহযোগিতা করার জন্য ফ্যাক্টরীর একজন শ্রমিক জনৈক বেলাল মোবাইল ফোনে গাজীপুর জেলার সভাপতি শহিদুল ইসলাম শহীদ’কে ফোন দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় নিহত শহিদুল ইসলাম শহীদসহ আরো কয়েকজন শ্রমিক নেতা ফ্যাক্টরীর সামনে মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের সাথে আলোচনা শেষে ফেরার পথে নিহত শহিদুল ইসলামসহ তার সাথে থাকা অন্যান্য শ্রমিক নেতাদের উপর গ্রেফতারকৃত আসামী আকাশসহ ১৩/১৪ জন সহযোগী পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে অতর্কিত হামলা করে এবং বেধড়ক মারধর শুরু করে। অতর্কিত হামলার কারণে শহিদুলের সাথে থাকা অন্যান্য সদস্যরা প্রাণনাশের ভয়ে দিক-বেদিক দৌড়ে পালিয়ে যায় এবং শ্রমিক নেতা শহিদুলকে সন্ত্রাসীরা উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকে। ফলশ্রুতিতে শ্রমিক নেতা শহিদুলের ঘটনাস্থলে নির্মমভাবে মৃত্যু ঘটে।
উক্ত ঘটনায় র্যাব-১৫ কর্তৃক গ্রেফতারকৃত আসামীর বিস্তারিত পরিচয় মোঃ আকাশ আহমেদ বাবুল (৪৩), পিতা-সিদ্দিকুর রহমান, সাং-বটটেকি, থানা-মির্জাপুর, জেলা-টাঙ্গাইল বলে জানা যায়। জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামী ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকার করে। গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।





