বিদেশে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ২ (দুই) লক্ষ টাকা আত্মসাৎ

আব্দুল কাদির,সিলেট জেলা প্রতিনিধি:

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১১নং শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের মেহেরপুর গ্রামের ফখর উদ্দিনের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক রানা মিয়া এবং মৃত জুনাব আলীর ছেলে সালেহ আহমদের কাছ থেকে বাংলাদেশ থেকে ওমানের জাল ভিসা দিয়ে বিদেশে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দুই লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার বাউশা ইউনিয়নে দুলচাদল গ্রামের আছকর আলীর ছেলে ইরান প্রবাসী ফারুক আহমদ।

ঘটনাসূত্রে আব্দুর রাজ্জাক রানা মিয়ার কাছ থেকে জানা যায়,গত ২০১৯ সালে গোলাপগঞ্জের শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের মেহেরপুর গ্রামে ফখর উদ্দিনের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক রানা মিয়ার সাথে নবীগঞ্জের বাউশা ইউনিয়নের দুলচাদল গ্রামের আছকর আলীর ছেলে ফারুক আহমদের ইরানে সরাসরি বিদেশ যাত্রীর জন্য ওমানের একটি ভিসার কথা হয়। ফারুক আহমদ লোকদের বৈধ-অবৈধ ভাবে বিদেশে পাঠানো সহ বিভিন্ন দেশের ভিসার কাজ করেন,এটা তার পেশা হিসেবে চিহ্নিত। তাই আব্দুর রাজ্জাক রানা মিয়া তার চাচাতো ভাই সালেহ আহমদের ওমানের একটি ভিসার জন্য ফারুক আহমদের সাথে আলাপ করেন। ফারুক আহমদ আব্দুর রাজ্জাক রানা মিয়াকে কথা দেন যে তিনি ওমানের ভিসা দিবেন তার কাছে ভিসা রয়েছে, তিনি বাংলাদেশ থেকে ওমানে পৌঁছাতে পারবেন। অতঃপর সম্পূর্ণ কথাবার্তা হলে আব্দুর রাজ্জাক রানা মিয়ার চাচাতো ভাই সালেহ আহমদ কে বাংলাদেশ থেকে ওমানে পাঠানোর সম্পূর্ণ খরচ আসবে ২ (দুই) লক্ষ টাকা দিতে হবে ফারুক আহমদ দাবি করেন। আব্দুর রাজ্জাক রানা মিয়াও ফারুক আহমদের কথা রাজি হন তিনি সব টাকা দিবেন কিন্তু তার ভাই ওমান পৌঁছাতে হবে, এই আলাপন ফাইনাল হয়।এরপর ফারুক আহমদ তাদেরকে একটি জাল ভিসা মোবাইলে অনলাইনের মাধ্যমে প্রদান করে,সাথে সাথে ২০১৯ সালের ২০শে মার্চ ফারুক আহমেদর কথা অনুযায়ী সালেহ আহমদ ও আব্দুর রাজ্জাক রানা মিয়ার আত্মীয় মৃত আপ্তাব আলীর ছেলে নিজাম উদ্দিনের মাধ্যমে “পূবালী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড” মীরগঞ্জ শাখা থেকে ফারুক আহমদের দেওয়া ব্যাংক একাউন্টে ২ (দুই) লক্ষ টাকা জমা দেন, যার ক্যাশ ভাউচার রয়েছে। এরপর টাকা প্রদান শেষে ফারুক আহমদের দেওয়া ভিসা যাচাই করলে দেখা যায় এটা জাল ভিসা, এটা সব জায়গায় জাল হিসেবে চিহ্নিত।

ঘটনাস্থলে তাদের পরিবার সহ আব্দুর রাজ্জাক রানা মিয়ার ইরানে বন্ধুবান্ধব সবাই একত্রিত হয়ে এবং দেশ থেকে ফোনের মাধ্যমে ফারুক আহমদকে প্রশ্নের সম্মুখীন করেন। ফারুক আহমদ সবাইকে এই কথা বলে বুঝান, আমি ভিসা দিয়েছি ভিসাটি যে জাল হবে তা আমার জানা ছিলো না যেহেতু আমার ভিসা জাল বাংলাদেশ থেকে ওমান যাওয়া হয়নি তাহলে আমি ২(দুই) লক্ষ টাকা ফেরত দিয়ে দিবো আমাকে কয়েকদিনট সময় দেওয়া হোক। পরে অনেক দিন আব্দুর রাজ্জাক মিয়া ২০১৯ সাল থেকে সবসময় টাকা টা ফেরত চান, ফারুক আহমদ ফেরত সময় নিয়েই থাকতো। অবশেষে সে আব্দুর রাজ্জাক রানা মিয়াকে সরাসরি বলে দেয় “আমি টাকা দিবো না পারলে উদ্ধার করে নিও”। বর্তমানে আব্দুর রাজ্জাক রানা মিয়া জীবিকার তাগিদে গ্রীসে প্রবাসী হিসেবে বসবাস করছেন।

আব্দুর রাজ্জাক রানা মিয়া বলেনঃ ফারুক আহমদ হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার বাউশা ইউনিয়নে আছকর আলী ও সাবেক মহিলা মেম্বার বেগম রোকেয়ার ছেলে। সে দীর্ঘদিন যাবত ইরানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। সে বিভিন্ন দেশে বেশির ভাগ অবৈধ ভাবে লোক পাঠিয়ে প্রচুর টাকা লোপাট করছে। এছাড়াও সে বহু লোকের কাছ থেকে বিদেশের যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অনেক টাকা আত্মসাৎ করছে তার কাছ থেকে বহুলোক প্রতারনার শিকার। আমি চাই ফারুক আহমদকে উচিত শাস্তির আওতায় নেওয়া হোক,আমার সাথে যেরকম হয়েছে আর কারও সাথে যেম এমন না হয় এবং আর কোন সাধারণ মানুষ যেন তার ফাঁদে না পরে। আমি প্রয়োজনে প্রশাসনের মাধ্যমে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহন করবো। বর্তমানে আমি “বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক সোসাইটি” সিলেট বিভাগীয় কমিটিকে অবগত করছি, খুব শীঘ্রই আনইগতভাবে সকল পদক্ষেপ গ্রহনে প্রশাসনের সহযোগীতা নিচ্ছি। তাকে যে সঠিক বিচারের আওতায় নেওয়া হোক ও দ্রুত শাস্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

এছাড়াও রানা মিয়া আরও জানান, গত ১৭ই ডিসেম্বর,২০২১ইং ফারুক আহমদ ইরান থেকে দেশে আসছে। সে বিগত ২০ থেকে দিন দেশে আছে প্রায় ৪ মাস দেশে থাকবে। আমি ফারুক আহমদের কাছ থেকে আমার ২(লক্ষ) টাকা উদ্ধার সহ থাকে সঠিক বিচারের মাধ্যমে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহনে প্রশাসনের উপরমহল সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।


বিদেশে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ২ (দুই) লক্ষ টাকা আত্মসাৎ

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

0FansLike
3,912FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles