
মো. তৌফিকুর ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি আমতলী বরগুনা
বরগুনার আমতলীতে দেবরের নির্দেশে তার স্ত্রী কতৃক শারীরিক নির্যাতনের স্বীকার হয়ে মোসা: খদিজা আক্তার লিমা নিজে বাদী হয়ে দেবরের ও দেবরের স্ত্রী রুপার বিরুদ্ধে আমতলী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। এতে দেবর ও দেবরের স্ত্রীর বিরুদ্ধে মারধোরের অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল (১ লা মে) রোজ বৃহস্পতিবার সকাল ৭ টার দিকে আমতলী উপজেলার চাওয়া পাতাকাটা গ্রামের মোল্লা বাড়ির বাসিন্দা মো: মনিরুল ইসলামের স্ত্রী মোসাম্মাদ খাদিজা আক্তার লিমাকে অতর্কিত ভাবে হামলা করেছেন তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রুপা বেগম। রুপা একই গ্রামের একই বাড়ির মনিরুল ইসলামের আপন ছোট ভাই বেল্লাল মোল্লার স্ত্রী।
অভিযোগ সুত্রে জানাযায়,বাদী লিমার স্বামীর সাথে সংসার শুরু হওয়ার পরপরই তার দেবরের স্ত্রী রুপার সাথে সম্পর্ক ভাল হয়ে গড়ে উঠেনি অদ্যবদী। বিবাদী রুপার সাথে পারা-প্রতিবেশিদের কারো সাথেই ভালো সম্পর্ক নেই। রুপা বেগমের সাথে পাশ্ববর্তী এক মহিলার সাথে অসম্পর্ক থাকায় ওই মহিলা লিমা বেগমের বাড়ী এলে এ নিয়ে অযথা তর্কের সৃষ্টি করে হাতাহাতি করেছে রুপা। এনিয়ে তাদের সাথে সম্পর্ক আরো নষ্ট হতে শুরু করে।
গত (২ মে) রোজ শুক্রবার দুপর ১টার দিকে বাদী খাদিজা আক্তার লিমার স্বামী মসজিদে নামাজ পরাতে গেলে ওই ফাকে তিনি টিউবওয়েলের পানি আনতে যান। বিবাদী রুপা বেগমও সেখানে যান। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে রুপা দৌড়ে এসে ঝাড়ু নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধোর শুরু করেন। এতে বিবাদী রুমা বাদী লিমার শরীরে এবং মাথায় ও কোলে থাকা ৬ মাসের শিশুর মাথা পিটিয়ে আহত করেছেন। তাদের দুজনকেই আমতলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় খাদিজা আক্তার লিমা বাদী হয়ে ১। মোসাঃ রুপা বেগম (২৫), স্বামী মোঃ বেল্লাল মোল্লা, ২। মোঃ বেল্লাল মোল্লা (৪০) পিতা মৃত আফশার মোল্লা, উভয় সাং- পাতাকাটা, ৫নং চাওড়া ইউপি, থান্য আমতলী, জেলা-বরগুনাকে আসামী করে আমতলী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
প্রতিবেশী মোসাঃ মাহফুজা বেগম বলেন,আমি দেখলাম লিমা কোলে ছেলে নিয়ে একহাত দিয়ে টিউবওয়েল চাপতেছে। এর মধ্যে কথা নেই বার্তা নেই ঝাড়ু দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটানো শুরু করে। এ অবস্থা দেখে দৌড়ে গিয়ে থামানোর চেষ্টা করি তখন রুপা আমাকেও অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেছেন।
বাদী মোসাঃ খদিজা আক্তার লিমা বলেন প্রায় ১৭ বছর ধরে আমার স্বামীর সাথে বিবাহ হয়। আমাদের দাম্পত্য জীবনে ৩টি মেয়ে ও ১টি ছেলে। বিবাদীরা আমার দেবর ও তার স্ত্রী হয়। আমাদের একই বাড়ি পাশাপাশি বসবাস করি। বিবাহের পর থেকেই তারা আমাকে বিভিন্ন প্রকার মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে আসছে। আমার স্বামী জুমার নামাজ পড়াতে গেলে আমি খাবার পানি আনার জন্য আমার বসত ঘরের সামনে। টিউবলে গেলে রুপা আমার সাথে আহতুহ ঝগড়া তর্কের সৃষ্টি করে এবং আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আমি প্রতিবাদ করলে তার স্বামীর নির্দেশে দৌড়ে গিয়ে ঘর থেকে ঝাড়ু এনে এলোপাতারী পিটিয়ে আমি ও আমার ৬ মাসের সন্তানকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নিলা ফুলা জখম করে।
বিবাদী রুপা বলেন, আমি পিটিয়েছি সত্য তবে তার খারাপ আচরণে।
এ ব্যাপারে আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আরিফুর রহমান জানান, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নিবো।











