
মোঃ নাঈম বিল্লাহ,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
বরগুনার আমতলীতে হিন্দু পরিবারের গৃহবধূ গণধর্ষনের শিকার হয়েছেন। সেই বিবিষিকাময় ঘটনার কথা স্মরন করে ভয়ে ওই গৃহবধূ এখন বাড়ি যেতে ভয় পাচ্ছেন। অন্যদিকে নির্যাতন কারীদের স্বজনরা ধর্ষিত ওই নারীর স্বামী এবং ছেলেদেরকে বাড়ি ছাড়ার হুমকি দিচ্ছে। পরিবারটি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে বলে তাদের দাবী। এঘটনায় মামলার পর ইমরান ও ইমরাজ হাওলাদার নামে দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর আদালত থেকে ইমরান জামিনে বেড়িয়ে যাওয়ায় পরিবারটিতে আরো আতঙ্ক বাড়ছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের ছোনাউটা গ্রামের নজরুল ইসলাম হাওলাদারের ছেলে সাইফুল ইসলাম হাওলাদার (২৫) একই গ্রামের শহিদ হাওলাদারের ছেলে মো. ইমরান হাওলাদার একই গ্রামের এক হিন্দু পরিবারের গৃহবধূকে হত্যার হুমকি দিয়ে হাত পা বেধে গত ২৩ ও ২৯ অক্টোবর দু’দফা ধর্ষন ও নির্যাতন করে। এসময় নির্যাতনের ভিডিও ধারন করে ইমরান হাওলাদারের ছোট ভাই ইমরাজ হওলাদার (২২)। আসামীরা নির্যাতনের এঘটনা ফাঁস করলে তার ধারন করা ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলেও শাসায়। নির্যাতনের এঘটনায় ওই গৃহবধূ ১ নভেম্বর শনিবার রাতে সাইফুল, ইমরান, ও ইমরাজকে আসামী করে একটি গনধর্ষন মামলা দায়ের করেন। মামলার পর বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে তার ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। মামলার রাতেই দুই নম্বর আসামী ইমরানকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠায় পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে তিন নম্বর আসামী ভিডিও ধারনকারী ইমরাজকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার করা ইমরান বুধবার আদালতে থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে বেড়িয়ে আসায় নির্যাতিত ওই পরিবারটির মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নির্যাতিত ওই গৃহবধূ অভিযোগ করে বলেন, ২৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেলে আমার স্বামী ও দুই ছেলে বাজারে যায়। এসময় বাড়িতে আমাকে একা পেয়ে হাত পা বেধে হত্যার হুমকি দিয়ে সাইফুল ও ইমরান নির্যাতন ও ধর্ষন করে। তাদের ভয়ে এবং লোক লজ্জার কারনে আমি কাউকে এঘটনা জানাইনি। ঠিক একই কায়দায় ২৯ অক্টোবর বুধবার দুপুরে আামার স্বামী ছেলেরা ধানক্ষেতে কাজ করতে গেলে এই সুযোগে একই কায়দায় ফের সাইফুল ও ইমরান নির্যাতন করে। এবং ইমরানের ছোট ভাই ইমরাজ নির্যাতনের ভিডিও মোবাইলে ধারন করে। নির্যাতন ও ধর্ষণ শেষে চলে যাওয়ায় সময় তারা এ ঘটনা কাউকে জানালে কিংবা মামলা করলে ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে এবং হত্যারও হুমকি দিয়ে যায়।
তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে আরো বলেন, আমি এখন বাড়ি যেতে ভয় পাই। ওরা খুব খারাপ লোক। আমি এখন ভাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি।
নির্যাতিত ওই গৃহবধূর স্বামী অভিযোগ করে বলেন, দুই পোলা লইয়া এহন মোগো বাড়তে থাকতেও ডর লাগে। সাইফুলের মা পিয়ারা বেগম, বউ হামিদা বেগম ও ইমরানের মা বিউটি বেগম মোগো বাড়ি ছাইর্যা যাইতে কয়। তোরা নোম দ্যাশে থাকতে পারবি না।
নির্যাতিতের বড় ছেলে বলেন, মোরা এহন ব্যামালা ডরের মধ্যে আছি। মোর মার লগে যারা এইরহম খারাপ কাম করছে হেগো ফাঁসি চাই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন গ্রামবাসী বলেন, সাইফুল ইমরান ও ইমরোজ খুব খারাব প্রকৃতির লোক। আনেক আগে থেকেই তারা এধরনের খারাব কাজের সাথে জড়িত।
আমতলী থানার ওসি তদন্ত ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, মামলার পর ইমরান ও ইমরোজকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, অন্য আসামীকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, আসামী পক্ষের স্বজনদের হুমকির বিষয়টি আমার জনা নেই। বিষয়টি আমাদের জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











