
অনলাইন ডেস্ক
ইরানের উপর যুক্তরাষ্ট্র একটি বড় হামলা শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার তিনি ঘোষণা দেন, ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করা হবে, পারমাণবিক কর্মসূচি শেষ করা হবে ও সরকারের পরিবর্তন আনা হবে।
ইরানের রাজধানী তেহরানে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয়রা জানান, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ও জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখা গেছে।
ইসরায়েলও শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে ইরানের বিরুদ্ধে তাদের নিজস্ব হামলা শুরু করেছে। ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পাল্টা প্রতিহত করতে প্রস্তুত হচ্ছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ এই হামলাকে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ হিসেবে অভিহিত করছে।
ট্রাম্প একটি ভিডিও বার্তায় একে ‘বড় সামরিক অভিযান’ ঘোষণা করে বলেন, আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেব। তাদের নৌবাহিনী সম্পূর্ণ ধ্বংস করব।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান চুক্তি না করায় যুদ্ধ এড়ানো যায়নি বলে যুক্তি দেন। এছাড়া, ট্রাম্প ইরানিদের আহ্বান জানান, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান শেষ হলে তারা সরকারের পরিবর্তন ঘটাতে পারে। তিনি বলেন, এটি হয়তো আপনাদের প্রজন্মের একমাত্র সুযোগ।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, এই হামলা গত জুনে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পরিচালিত হামলার তুলনায় অনেক বিস্তৃত হবে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বিমান ঘাঁটি ও বিমানবাহী জাহাজ থেকে ডজনেরও বেশি বিমান আক্রমণ চালাচ্ছে।
তাৎক্ষণিকভাবে হামলার লক্ষ্য কী ছিল তা স্পষ্ট হয়নি। তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, অভিযান কয়েক দিন চলতে পারে।
ইরানের কর্মদিবসের প্রথম দিন শনিবার সকালেই হামলা শুরু হয়। তখন লাখ লাখ মানুষ কর্মস্থল ও স্কুলে উপস্থিত ছিলেন। ফার্স নিউজ এজেন্সি জানাচ্ছে, ইসফাহান ও কারাজসহ অন্যান্য শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইসরায়েলেও পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে ইরান। ফলে ইসরায়েলজুড়ে সতর্কতা সাইরেন বাজানো হয়েছে।
এই হামলা আসে কয়েক সপ্তাহের উত্তেজনার পর, যখন ট্রাম্প বারবার ইরানের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা সুইজারল্যান্ডে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনায় বসেছিলেন। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি, যা হামলার পথ সুগম করেছিল।













