
ইতি খানম,নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি
নরসিংদী ও গাজীপুর অঞ্চলের সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছে সেলিনা সুলতানা নিশীতা-র নাম। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, কারাবরণ এবং রাজপথের সক্রিয় রাজনীতির কারণে তাকে একজন পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেত্রী হিসেবে মূল্যায়ন করছেন নেতাকর্মীরা।
সংগ্রাম, কারাবরণ ও অদম্য সাহসের ইতিহাস
ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে সাহসিকতার এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে পরিচিত সেলিনা সুলতানা নিশীতা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর রাজনীতিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ইডেন বিশ্ববিদ্যালের কলেজের সাবেক তিন বারের সফল সভাপতি এবং ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের তুখোড় বার বার কারা নির্যাতিত নেত্রী হিসেবে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে গিয়ে তাকে গ্রেফতার, কারাবরণ এবং রিমান্ডের কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়গুলোতে ঢাকার রাজপথে তার দৃপ্ত উপস্থিতি ছিল আন্দোলনের অন্যতম অনুপ্রেরণা। মামলা, নির্যাতন ও কারাবরণ কোনো কিছুই তাকে আদর্শচ্যুত করতে পারেনি। বরং প্রতিটি প্রতিকূলতা তাকে আরও দৃঢ় করেছে সংগ্রামের পথে এগিয়ে যেতে।
দল ও দেশনেত্রীর প্রতি অটল আনুগত্য
১/১১-পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়া-র মুক্তির পর থেকে দলের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন নিশীতা। বিভাগীয় সমাবেশ, রোড মার্চ কিংবা কেন্দ্রীয় আন্দোলন— সবখানেই তাকে দেখা গেছে সামনের সারির নেতৃত্বে।
বিশেষ করে রাজধানীকেন্দ্রিক আন্দোলন ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলোতে তার নেতৃত্ব কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। সহকর্মীদের ভাষায়,
“তিনি শুধু একজন সংগঠক নন, বরং রাজপথে গড়ে ওঠা এক সাহসী সংগ্রামী কণ্ঠ।”
তৃণমূলের প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক মূল্যায়ন
দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ, নিষ্ঠা ও পরীক্ষিত নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে সেলিনা সুলতানা নিশীতা সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার পূর্ণ যোগ্যতা রাখেন।
তাদের মতে, রাজপথের একজন পরীক্ষিত কর্মী সংসদে গেলে আন্দোলনের চেতনা এবং সাধারণ কর্মীদের প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী হবে। নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা— বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এই নির্যাতিত ও সংগ্রামী নেত্রীকে তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন করবে।
তাদের বিশ্বাস, সংসদে তার মতো একজন আপসহীন কণ্ঠস্বর যুক্ত হলে তা শুধু ব্যক্তিগত স্বীকৃতি নয়, বরং রাজপথের ত্যাগী রাজনীতিরই সম্মান প্রতিষ্ঠা করবে।





