
অনলাইন ডেস্ক
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় কর্মচারী ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে এজহার দায়ের করেছেন নিহতের স্বামী ইমতিয়াজুর সুলতান।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় তিনি এই এজহার দায়ের করেন।
এজহারে প্রধান আসামি হিসেবে বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার, সহকারী অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান এবং সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিত কুমার বিশ্বাসকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতির কক্ষে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমান সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার গলায় ছুরিকাঘাত করেন। পরে নিজেও গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি।
গুরুতর অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে অভিযুক্ত ফজলুর রহমান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, ফজলুর রহমান আগে সমাজকল্যাণ বিভাগের কর্মচারী ছিলেন। তার কিছু অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে বিভাগীয় প্রধান তাকে পরবর্তীতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করেন। বদলির আগে তাকে তিন থেকে চারবার সুযোগ দেওয়া হলেও তার আচরণ পরিবর্তন না হওয়ায় কর্তৃপক্ষ তাকে অন্য বিভাগে স্থানান্তর করতে বাধ্য হয়। এই কারণেই ক্ষোভ থেকে হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে এর বাইরে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে কাজ করছে পুলিশ।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টায় ময়নাতদন্ত শেষে আসমা সাদিয়া রুনার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার পর বাদ জোহর কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।





