রাজধানীতে মিশরীয় দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ: ধর্মীয় নিপীড়ন বন্ধ ও বন্দিদের মুক্তির দাবি

0
41

নিজস্ব প্রতিনিধি ঢাকা

মিশরে কেবল ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে ‘আহমদী রিলিজিয়ন অব পিস অ্যান্ড লাইট’ (AROPL)-এর সদস্যদের ওপর কথিত রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, গুম ও অমানবিক নির্যাতনের প্রতিবাদে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত মিশরীয় দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেল ৩টায় বাংলাদেশে বসবাসরত ‘আহমদী রিলিজিয়ন অব পিস অ্যান্ড লাইট’ (AROPL)-এর সদস্যরা এ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তারা বিশ্বব্যাপী ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার দাবিতে সংহতি প্রকাশ করেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও মার্কিন আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন (USCIRF)-এর ২০২৫-২৬ সালের প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, গত এক বছরে মিশরের নিরাপত্তা বাহিনী পরিকল্পিতভাবে AROPL-এর অন্তত ১৪ জন সদস্যকে ধর্মীয় বিশ্বাস প্রচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার ও গুম করেছে। তাদের মধ্যে আহমেদ আল-তানাউই ও হুসাইন আল-তানাউইসহ কয়েকজনকে বিচার ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়, যা আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদের (ICCPR) লঙ্ঘন বলে দাবি করেন বক্তারা।

সমাবেশের প্রধান বক্তা মোস্তফা কাওসার বলেন, “যে মিশর একসময় বিশ্বকে সভ্যতা ও আইনের আলো দেখিয়েছিল, আজ সেই রাষ্ট্রযন্ত্র নাগরিকদের বিশ্বাসের স্বাধীনতা দমনে ব্যবহৃত হচ্ছে। আমরা ন্যায়বিচার ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানাতে এখানে এসেছি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কারাগারে আটক ব্যক্তিদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে এবং অসুস্থ বন্দিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, এমনকি ডায়াবেটিস রোগীদের ইনসুলিনও সরবরাহ করা হচ্ছে না।

সমাবেশে বক্তারা বাংলাদেশেও এই সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওপর সাম্প্রতিক ‘মব ভায়োলেন্স’ বা গণপিটুনির ঘটনার নিন্দা জানান। তারা অভিযোগ করেন, পটুয়াখালীর গলাচিপাসহ বিভিন্ন এলাকায় তাদের সদস্যদের সামাজিকভাবে বয়কট ও লাঞ্ছনার শিকার হতে হচ্ছে।

বক্তা তৌফিকুর ইসলাম ও মো. সালাউদ্দিন বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের ধর্ম পালন ও প্রচারের অধিকার রয়েছে। কিন্তু যখন একজন নাগরিককে অপমান করে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং রাষ্ট্র নীরব থাকে, তখন সেই স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।”

বক্তারা ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের চেতনা ধরে রেখে সকল নাগরিকের মানবিক মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।

প্রথমত, মিশরে অবৈধভাবে আটক ও গুম হওয়া সকল বিশ্বাসীকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, বন্দিদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

তৃতীয়ত, বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রবাদ ও মব ভায়োলেন্স বন্ধে প্রশাসনিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

কর্মসূচিতে সাবিরুল ইসলাম শোয়েব, মোস্তফা কাওসার, মো. নাসিম হাওলাদার, সালমান আবেদীন, সুমন হাওলাদার, মো. নজরুল ইসলাম, মো. তৌফিকুর ইসলাম, অ্যান্থনি গোমেজ, মো. সালাউদ্দিন, মো. সারাজ, সোহান, রিফাত, মো. নেছার উদ্দীন, মো. মাহবুবুল হাফিজ (সোহেল), মো. মমিন, মো. আল আমিনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা সতর্ক করে বলেন, ন্যায়বিচার বিলম্বিত হলে আন্তর্জাতিক মহল নীরব থাকবে না এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।


রাজধানীতে মিশরীয় দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ: ধর্মীয় নিপীড়ন বন্ধ ও বন্দিদের মুক্তির দাবি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here