একশ টাকার বিরোধে আমতলীতে পোশাক শ্রমিক খুন

0
44

মোঃ সুমন বেপারী,শিক্ষানুবিশ প্রতিনিধি

বরগুনার আমতলী উপজেলায় মাত্র একশ’ টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত পোশাক শ্রমিক সজিব আকন (২০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামে গত ২১ মার্চ ঈদুল ফিতরের দিন সকালে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের আয়নালী আকন প্রতিবেশী সোনা মিয়া প্যাদার কাছ থেকে ৭০০ টাকায় দুই মণ ধানের কুড়া (খশি) ক্রয় করেন। পরে ওই কুড়ার জন্য অতিরিক্ত একশ’ টাকা দাবি করেন সোনা মিয়া প্যাদা। এ নিয়ে গত ৫ মার্চ আয়নালী আকনের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়।

এর জের ধরে ঈদের দিন সকালে আয়নালী আকনের তিন ছেলে বিষয়টি নিয়ে সোনা মিয়া প্যাদার কাছে জানতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক ঘণ্টা পর সোনা মিয়া প্যাদার নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে আয়নালী আকনের বাড়িতে হামলা চালায়।

এ সময় আয়নালী আকন, তার ছেলে আল আমিন আকন, সজিব আকন, রোকেয়া বেগমসহ অন্তত ছয়জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে সংকটজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ দিন পর সোমবার দুপুরে সজিব আকন মারা যান। বাকি আহতরা এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহত সজিব আকনের বড় ভাই রুহুল আমিন আকন ২২ মার্চ সোনা মিয়া প্যাদাকে প্রধান আসামি করে ১৩ জনের বিরুদ্ধে আমতলী থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে ২৪ মার্চ মামলার ৮ আসামি আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।

নিহতের ভগ্নিপতি মো. আশরাফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, একশ’ টাকার জন্য পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমার শ্বশুরকে আগেই মারধর করা হয়েছিল। এরই জের ধরে ঈদের দিন বাড়িতে হামলা চালিয়ে সবাইকে কুপিয়ে আহত করা হয়। আমরা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মামলার ৮ আসামি আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

উল্লেখ্য, নিহত সজিব আকন ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গত ২০ মার্চ তিনি বাড়িতে এসেছিলেন।


একশ টাকার বিরোধে আমতলীতে পোশাক শ্রমিক খুন

Share this news as a Photo Card

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here