
নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি
নোয়াখালী সদরে বিয়ের আনন্দকে কেন্দ্র করে ময়লা ফেলা নিয়ে বিরোধের জেরে দুবাইপ্রবাসী এক যুবকের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা বিয়ের গেট ও প্যান্ডেল ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে সদর উপজেলার পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার দুবাইপ্রবাসী যুবক রাজু হোসেনের বিয়ে এবং মঙ্গলবার তার গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল।
আহতরা হলেন রাজু হোসেনের বাবা আবদুল হক মাস্টার (৭০), মা ফেরদৌসী বেগম (৫৫), ছোট ভাই আজাদ হোসেন (২০), বড় বোন সুমি (২৮), শারমিন (২৬), ভাগিনা রাফসান (৮), ভাগনি আয়েশা (৪) ও লিজা (২)। তাদের মধ্যে রাজুর বাবা-মা, ভাই ও দুই বোনকে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে ময়লা ফেলা নিয়ে একই এলাকার কয়েকজনের সাথে বিয়েবাড়ির লোকজনের কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি নিয়ে হামলার আশঙ্কা দেখা দিলে রাজুর পরিবার জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা করার সিদ্ধান্ত দিয়ে পুলিশ ফিরে যায়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাজু হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়িতে অবস্থানরত নারী-শিশুদের ওপর হামলার পাশাপাশি বিয়ের জন্য তৈরি করা গেট ও প্যান্ডেল ভাঙচুর করা হয়।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. শাহরিয়ার জানান, রাত ৮টার দিকে গুরুতর আহত পাঁচজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে দুই নারী ও দুই পুরুষকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অপর একজনকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আহত সবাই বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন বলে জানান তিনি।
সুধারাম মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।












