আ লীগের কেউ ব্যবসা করতে পারবে না’—চাঁদা দাবির অভিযোগ

0
41

গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি

‘আওয়ামী লীগের কেউ ব্যবসা করতে পারবে না। ব্যবসার লাইসেন্স থাকুক আর না থাকুক’—এমন হুমকি দিয়ে গাজীপুরে এক ইন্টারনেট ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে কৃষক দল কর্মী তরিকুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। চাঁদা না দিলে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে টানা প্রতিষ্ঠানের ইন্টারনেটের অপটিক্যাল কেবল কেটে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ব্যবসায়ী সাজ্জাদ হোসেনের।

এ ঘটনায় বাসন থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাজ্জাদ হোসেন ‘অ্যাডভান্স নেটওয়ার্ক সিস্টেম’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। বাসন থানা এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) বৈধ লাইসেন্স রয়েছে।

সাজ্জাদের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস ধরে তরিকুল ইসলামসহ কয়েকজন তাঁর বৈধ ব্যবসায় বিভিন্নভাবে বাধা দিয়ে আসছিলেন। একপর্যায়ে তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে এলাকায় ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলেও তাঁর কর্মচারীদের হুমকি দেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়, গত ৩১ আগস্ট রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে তরিকুল ইসলাম মোবাইল ফোনে সাজ্জাদ হোসেনকে কল করে আবারও চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে বিদ্যুতের খুঁটিতে টানা তাঁর প্রতিষ্ঠানের ইন্টারনেট কেবল কেটে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

এরই মধ্যে ওই ফোনালাপের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তরিকুলকে বলতে শোনা যায়—‘তারেক রহমানের খাম্বায় আওয়ামী লীগের কেউ ব্যবসা করতে পারবে না। তাঁর ব্যবসার লাইসেন্স থাকুক আর না থাকুক। আমরা আওয়ামী লীগ আমলে ব্যবসা করতে পারি নাই, এখন আপনারাও করতে পারবেন না।

সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “আমি বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছি। এরপরও চাঁদা দাবি করে বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। চাঁদা না দেওয়ার পর আমার প্রতিষ্ঠানের কেবল কেটে দেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন আমি ও আমার কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।

অভিযোগের বিষয়ে তরিকুল ইসলাম বলেন, “তারা (ব্যবসায়ী সাজ্জাদ হোসেন) আওয়ামী লীগ করেন। আওয়ামী লীগ আমলে কি আমরা ব্যবসা করতে পেরেছি? পারিনি। কিন্তু তারা ঠিকই ব্যবসা করছে। আমরা কৃষক দল করি, আমার বাবাও কৃষক দল করেন। আওয়ামী লীগ আমলে আমরা জেল খেটেছি, রিমান্ডে ছিলাম। সেই হিসেবে তো আমরা কিছুই করছি না।

এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানার এসআই মো. শিবলু মিয়া বলেন, “ব্যবসায়ীকে হুমকি দেওয়া এবং তাঁর প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা ইন্টারনেট কেবল কাটার বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে অভিযোগের সত্যতা ও কেবল কাটার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


আ লীগের কেউ ব্যবসা করতে পারবে না’—চাঁদা দাবির অভিযোগ

Share this news as a Photo Card

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here