বৈধ রেমিট্যান্স এনেও হয়রানির শিকার ফ্রিল্যান্সার মিজানুর রহমান শোয়েব

0
7

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রায় ১০ বছর ধরে আইটি ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে বৈধ উপায়ে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা এনে রিজার্ভে অবদান রাখছেন মিজানুর রহমান শোয়েব। নিয়মিত আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া সত্ত্বেও কর অফিসের অডিট ও যাচাই-বাছাইয়ের নামে চরম সামাজিক হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান শোয়েবের দাবি, গত ১৯ আগস্ট উত্তরা কর অফিসের একজন কর পরিদর্শক হোয়াটসঅ্যাপে কল করে তাঁর ২০২৩-২৪ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন যাচাইয়ের কথা জানান। এর ভিত্তিতে ফ্রিল্যান্সিং আয়ের প্রমাণ, ব্যাংকিং স্টেটমেন্ট ও জমির দলিল চাওয়া হলে তিনি নিয়ম মেনে সমস্ত কাগজপত্র জমা দেন।

তবে নথিপত্র হস্তান্তরের পরও থেমে থাকেনি কর দপ্তরের তৎপরতা। গত ২৯ আগস্ট ওই কর্মকর্তা সরাসরি তাঁর বাসায় উপস্থিত হয়ে তল্লাশি চালান। শোয়েব অভিযোগ করেন, উক্ত কর্মকর্তা দলিলে স্পষ্ট তথ্য থাকা সত্ত্বেও জমি মেপে ভুয়া অসংগতির আভাস দেওয়ার চেষ্টা করেন। শুধু তা-ই নয়, বাসা ও আশপাশের প্রতিবেশী ও ভাড়াটিয়াদের সামনে তাঁকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন তুলে সামাজিকভাবে মারাত্মক বিব্রত ও অপদস্থ করা হয়।

বাসা পরিদর্শনের পর বারবার ফোনে চাপ সৃষ্টি করা হলে ভুক্তভোগী কোনো অনৈতিক লেনদেনে জড়িত হবেন না বলে লিখিত নোটিশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জবাব দেওয়ার কথা জানান। এর পরপরই উক্ত কর অফিস থেকে আরও তিনটি বিষয় উল্লেখ করে কারণ দর্শানোর নতুন চিঠি পাঠানো হয়।

চিঠিতে দোকান ভাড়া বাবদ ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা, বাড়ি ভাড়া বাবদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং ২০২১ সালে জমির বায়না বাবদ দেওয়া ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। ভুক্তভোগীর মতে, এসব হিসাব ও সময়কাল বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং কেবল আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।

সামাজিক লাঞ্ছনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মিজানুর রহমান শোয়েব বলেন, “আমি আইনের ঊর্ধ্বে নই এবং প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও নথিপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ন্যায়সংগত তদন্তে আমার কোনো ভয় নেই; কিন্তু অডিটের নামে একজন নিয়মিত করদাতাকে সামাজিকভাবে খাটো বা হয়রানি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”

তিনি আরও যোগ করেন, নিজের মেধা বিক্রি করে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আনা ফ্রিল্যান্সাররা যেন এভাবে অহেতুক দাপ্তরিক ও সামাজিক লাঞ্ছনার শিকার না হন—সে বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের আশু নজর দেওয়া প্রয়োজন।

(উল্লেখ্য, এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে।)


বৈধ রেমিট্যান্স এনেও হয়রানির শিকার ফ্রিল্যান্সার মিজানুর রহমান শোয়েব

Share this news as a Photo Card

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here