
চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অস্ত্র হাতে মহড়া দিয়ে আলোচনায় আসা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলার আসামি মো. শিবলু ওরফে ‘বুলেট শিবলু’কে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের হেটিখাইন গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকার শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার শিবলু আনোয়ারা উপজেলার নাছির মেম্বারের বাড়ির আবুল হাসেমের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহর এলাকায় শিক্ষার্থীদের সমাবেশে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত ৫ সেপ্টেম্বর নগরীর পাঁচলাইশ মডেল থানায় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনিকে প্রধান আসামি করে ৯৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন ছাত্রদল নেতা জিয়াউল হক জোনাইদ। ওই মামলায় শিবলু ৬৯ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।
এ ছাড়া আনোয়ারা থানায় এক মাদ্রাসাছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর দুই দফায় হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায়ও শিবলুকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে।
সম্প্রতি ঈদের ছুটিতে গ্রামে আসা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্সে কর্মরত সদস্য মো. আরিফুল ইসলামকে মারধর, মোবাইল ফোন ছিনতাই ও হেনস্তার অভিযোগও রয়েছে শিবলু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা জানান, গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি অস্ত্র হাতে শিবলুর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এলাকায় ফিরে তিনি একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দিলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস করতেন না। রাত নামলে শিবলু ও তার সহযোগীদের কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠতেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘গ্রেপ্তার শিবলুর কাছে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে আরো অপরাধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকতে পারে। যাচাই-বাছাই করে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।’
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বিশেষ অভিযান চালিয়ে শিবলুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক নিয়মিত মামলা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে। এ ছাড়া অন্য কোনো থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’













