
মোহাম্মদ রায়হান,কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলাধীন ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন পরিচালিত হাসপাতালের মেডিকেল সহকারী, মানবতার ফেরিওয়ালী সানজানা শিরিন। এই হাসপাতালে পার্শ্ববর্তী ১৭টির ও বেশি চা-বাগানের দরিদ্র শ্রমিকদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। এখানে গর্ভবতী মায়েদের নরমাল ডেলিভারিতে কোনো টাকা দিতে হয় না। তারই ধারাবাহিকতায় সানজানা আপ্রাণ চেষ্টা করে কোনো অস্ত্রোপচার না করে স্বাভাবিক প্রসব করানোর। আর তার এই চেষ্টাকে সফল ভাবে সম্পন্ন করে এ পর্যন্ত ৬৯০ জন নবজাতকের জন্ম হয়েছে এই তরুণীর হাতে।
তিনি শুধু এই কাজ নয় হাজারো রোগীর রক্তের যোগান দিচ্ছেন। মৌলভীবাজার জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কোনো রোগীর রক্তের প্রয়োজন হলে প্রথমেই সানজানার কথা স্বরণ হয়। আর তার কথা স্বরণ হবে না কেন আজ পর্যন্ত তার কাছে রক্ত চেয়ে ডোনার ম্যানেজ হয়নি এমন ঘটনা খুবই কম। তাই অনেক আশা-ভরসা নিয়েই রোগীর স্বজনরা তাকে নক দেন।
সানজানা দ্রুত রক্ত সংগ্রহ করে দেওয়ার মাধ্যমে হাজারো রোগীর পরিবারে হাসি ফুটিয়ে তুলছেন এই মহীয়সী তরুণী। এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার হাজারেরও বেশি রোগীর রক্ত সংগ্রহ করে দিয়েছেন সানজানা।
সানজানা শিরিন হবিগঞ্জ জেলা সদরের বহুলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পরিবারে ৯ ভাইবোন তার মধ্যে সানজানা ৩য়। তিনি মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীকালে মৌলভীবাজার ম্যাটস থেকে চার বছর মেয়াদি মেডিকেল সহকারী কোর্স সম্পন্ন করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে যোগ দেন।
পাশাপাশি মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রায় ৯ মাস কাজ করেছেন।
২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যোগ দেন বর্তমান কর্মরত ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন পরিচালিত হাসপাতালে। সানজানার মতে, “রক্তদান হলো সামাজিক অঙ্গীকার “। এটিতে মানবিক দায়বদ্ধতাও বটে। রক্ত দেওয়ার পর রোগীর স্বজনদের মুখে যে হাসি দেখি তাতে মন ভরে যায় । তিনি বলেন এখনই তো কাজ করার সময়, বয়স বাড়লে এতো কাজ করতে পারবো না। তাই এখনই ছুটে চলি।
সানজানা বলেন, সরকারি ভাবে বড় পরিসরে কোনো সুযোগ পেলে আরো বড় কিছু করতে চান মানুষের জন্য।
বর্তমানে সানজানা সৈয়দ আয়েশা ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠন পরিচালনা করছেন।
এবং ভবিষ্যতে হবিগঞ্জে একটি বৃদ্ধাশ্রম প্রতিষ্ঠিত করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
স্বল্প বেতনের এই চাকরি থেকে যা উপার্জন করেন নিয়মিত তার একটি অংশ রেখে দেন মানবসেবার জন্য। দরিদ্র চা-শ্রমিক,অসহায় বৃদ্ধ, পথশিশুদের পাশে দাঁড়ান সেই উপার্জিত অর্থের অংশ দিয়ে।
চাকরির পাশাপাশি তিনি করছেন অনলাইন ব্যবসা।এখান থেকে উপার্জিত পুরো টাকা খরচ করেন মানবসেবায়।
তার এসব কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ রোটারি ভোকেশনাল এক্সচেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড-২০১৯ সহ বেশকিছু পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।





