বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত সৌদি আরবের পরে কেন বাংলাদেশে ঈদ

বুড়িচং (কুমিল্লা) উপজেলা প্রতিনিধি:

পঞ্জিকা বলছে আগামী মঙ্গলবার ঈদ। পরশুদিন অর্থাৎ ২ মে রাত ৩ টা বেজে ২০ মিনিট ২৬ সেকেণ্ড পর শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথি শেষ হয়ে তৃতীয়া তিথি শুরু হবে। আর দ্বিতীয়া তিথি শুরু হবে ১ মে রাত ২ টা ৪৪ মিনিট ৪৫ সেকেণ্ড পর। সাধারণত প্রতিপদের পর ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা সময় পর্যন্ত দিনের আলো থাকলে দ্বিতীয়া তিথির চাঁদ দেখা যায়। এক্ষেত্রে সেই সময়ের চাইতে অনেক বেশি সময় পাওয়া যাবে। তবে এটা শতভাগ নিশ্চিত যে কোনভাবেই সোমবার বাংলাদেশে ঈদ উদযাপিত হবে না, কারণ আগের দিন অর্থাৎ রবিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশে দ্বিতীয়া তিথি শুরু হবে না বিধায় চাঁদও দেখা যাবে না।

সোমবার সৌদি আরবে ঈদ উদযাপিত হবে। কিন্তু কেন এই তারতম্য? চলুন জানার চেষ্টা করি:

সৌরবর্ষ অনুযায়ী সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশ ৩ ঘণ্টা এগিয়ে। এতে বাংলাদেশ ৩ ঘণ্টা আগে চাঁদ দেখার কথা। কিন্তু তা তো হয়ই না, উল্টো সৌদি আরবে একদিন আগে রমজান, ঈদ শুরু হয়ে যায় । এর কারণ হল সৌর হিসেবে সৌদি আরবের সাথে আমাদের পার্থক্য মাত্র ৩ ঘণ্টা হলেও চন্দ্রের হিসেবে সৌদি আরব ও আমাদের পার্থক্য ২১ ঘণ্টার!

প্রশ্ন আসতে পারে যে এটা কিভাবে সম্ভব! আসলে পৃথিবীর গতির কথা তো জানিই। পৃথিবী নিজের অক্ষের চারিদিকে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রতিনিয়ত ঘুরে চলেছে, যাকে আমরা আহ্নিক গতি বলি। গতিটা সহজে বোঝা যাবে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিক বা অ্যান্টি ক্লকওয়াইজ (Anti Clockwise) বললে। ঘড়ির কাঁটা পূর্বদিক থেকে পশ্চিমদিকে ঘুরে, আর পৃথিবী নিজ অক্ষে পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ঘুরে। মূলত সে কারণে আমরা প্রতিদিন সূর্যকে পূর্বদিকে উদিত হয়ে পশ্চিমদিকে অস্ত যেতে দেখি।

এখন চাঁদ বেশ ধীরে নিজ অক্ষে আবর্তনরত। চাঁদের আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতি সমান ২৭-২৯ দিন। ফলে প্রতিদিন পশ্চিমের দেশসমূহ সবার আগে চাঁদের উন্মোচন দেখতে পায়। আমরা তো জানিই, সূর্যোদয় হয় পূর্ব থেকে,তবে চাঁদের ক্ষেত্রে উল্টো। যদিও চাঁদও পূর্বে উদিত হয়ে পশ্চিমে অস্ত যায়, তবুও পশ্চিমারা চাঁদের আলো সবার আগে পায়।

কেন এক দেশে চাঁদ দেখা গেলেও অন্য দেশে দেখা যেতে দেরি হতে পারে। কেননা খালি চোখে চাঁদকে দেখতে হলে চন্দ্র আর সূর্যের মাঝে ১০.৫ ডিগ্রি কোণ থাকতেই হবে, এবং যে পরিমাণ দূরত্ব অর্জন করলে এই কোণ তৈরি হবে, সে পরিমাণ যেতে যেতে চাঁদের ১৭ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লেগে যায়। এ কারণেই আজ আমেরিকাতে চাঁদ দেখে গেলেই যে বাংলাদেশেও দেখা যাবে, সেটা ভুল ধারণা। যতক্ষণ না পর্যন্ত সেই কোণ অর্থাৎ ১০.৫ ডিগ্রি অর্জন না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত দেখা যাবে না। একই বিষয় সৌদি আরব ও বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এই সংকট কোণকে ইলঙ্গেশন (Elongation) বলে। তাই চাঁদের বয়স কত সেটা আদৌ আসল কথা নয়, সেই কোণ হয়েছে কিনা সেটার উপর নির্ভর করে চাঁদ দেখা যাবে কিনা।

ফলে আমরা সৌদি আরব থেকে ৩ ঘণ্টা সূর্যের হিসেবে এগিয়ে থাকলেও, চাঁদের হিসেবে ২১ (২৪-৩=২১) ঘণ্টা পিছিয়ে আছি। ২১ ঘণ্টা প্রায় ১ দিন। অর্থাৎ আমরা প্রায় একদিন পিছিয়ে আছি। সেজন্যই সৌর বছরের হিসেবে বাংলাদেশে আমরা সৌদি আরবের একদিন পরে চাঁদ দেখি, আর একদিন পরে ঈদ উদযাপিত হয়।


বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত সৌদি আরবের পরে কেন বাংলাদেশে ঈদ

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

0FansLike
3,912FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles