যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের রোগীদের নিন্ম মানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ।

0
81

মনিরুজ্জামান,যশোর জেলা প্রতিনিধি:


দিনকে দিন খাবার সরবরাহ হচ্ছে নিন্ম মানের এ অভিযোগ নিত্যকার। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের রোগীর নিম্ন মানের খাবার পরিবেশনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। খাদ্য সামগ্রীর দাম দফায় দফায় বাড়লেও ঠিকাদার ১০ বছর আগের রেটে খাদ্য সরবরাহের টাকা পাওয়ায় ধাপে ধাপে খাবারের মান কমিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২৫০ শয্যা হাসপাতালে বেশিরভাগ সময় ৪৫০ থেকে ৫০০ রোগী ভর্তি থাকায় শয্যার অতিরিক্ত রোগীকে খাবার না দেওয়ায় রোগী ও স্বজনদের মাঝে অসন্তোষ লেগেই থাকে।

সূত্র মতে, হাসপাতালে জনপ্রতি দৈনিক ১২৫ টাকার খাবার। রোগীরা পায় ১০০ গ্রাম ভাত আর একটু সবজি, ২০ থেকে ২৫ গ্রামের এক টুকরো মাছ কিংবা মাংস। অথচ তাদের পাওয়ার কথা ৮০ গ্রাম মাছ-মাংস। তবে তা মানতে নারাজ ঠিকাদার।

খাবারের মান প্রসঙ্গে ঠিকাদার শফিকুর রহমান শেকড় বলেন, পণ্যের দাম বাড়লেও খাবারের মানের কোনো ত্রুটি নেই। তিনি বলেন, প্রত্যেক রোগীর জন্য সকালের নাস্তা হিসেবে ১০০ গ্রাম পাউরুটি, একটি ডিম ও দুই পিস কলা দেয়া হয়। দুপুরে ভাতের সাথে ৮০ গ্রাম মাছ বা মাংস ও ২০ গ্রাম ডাল দেয়া হয়। রাতে দেয়া হয় ভাত, ডিম ও সবজি।

তিনি বলেন, সর্বশেষ ২০১২-১৩ অর্থ বছরের খাবার সরবরাহের জন্য টেন্ডার হয়। গত ১০ বছরে সব পণ্যের দাম বেড়েছে। কিন্তু টেন্ডার না হওয়ায় আগের রেইটেই খাবার সরবরাহ করে আসছেন। উচ্চ আদালতে রিট থাকায় টেন্ডার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। যেকারণে তারাই খাবার সরবরাহ করে আসছেন। পণ্যের উর্ধ্বগতির বাজারে ঠিকাদার কীভাবে আগের রেটে খাবার সরবরাহ করেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা শুধু খাবারই সরবরাহ করেন না। ওষুধ থেকে শুরু করে নানা চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ করেন।

হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজনদের সাথে কথা হয়। অধিকাংশ রোগী ও তাদের স্বজনরা ভয়ে মুখ খুলতে চান না। খাবার না পেলেও ফ্লোরে জায়গা পেয়ে চিকিৎসা পাচ্ছেন-এটাই যেন তাদের জন্য অনেক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন রোগী বলেন, সত্যি বললে ডাক্তার তো দূরের কথা, নার্স-ওয়ার্ড বয়রাও উঁকি দিয়ে দেখবে না।
তখন বিনা চিকিৎসায় মরতে হবে-ক্ষোভের সুরে বলেন এসব কথা। রোগীর চিকিৎসা করাতে এসে অনেক স্বজন রোগী হয়ে বাড়ি ফেরেন। অর্থাভাবে তাদের অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয়। টয়লেট-বাথরুমের বেহালদশা। দুর্গন্ধময় বাথরুম থেকে বেরিয়ে খাবার মুখে তুলতে পারেন না অনেকে।

এদিকে বেডে ভর্তি রোগীরাও মুখ খুলতে চান না। খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বেশ কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজনরা বলেন, হাসপাতাল থেকে যেসব খাবার দেয়া হয়, তা মুখে তোলা যায় না। কক বা পাকিস্তানি মুরগির ডিম দেয়, তাতে বিকট গন্ধ। ডাল দেখে মনে হয় হলুদ গোলানো পানি। মাছ বা মাংসের মানও ভাল না। যেকারণে অনেকেই বাড়ি থেকে, কখনো হোটেল রেস্তোরা থেকে খাবার কিনে খায়।

আর যারা বেডের বাইরে ফ্লোরে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের অভিযোগের অন্ত নেই। তারা বলেন, খাবার না পাওয়ার কারণে বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়। আর রোগীর স্বজনদের দিন কাটে অনাহারে-অর্ধাহারে। বেশি বিপাকে পড়তে হয় গ্রামাঞ্চলের রোগী ও তাদের স্বজনদের। তাদের খাবারের পেছনে চলে যায় মোটা অংকের টাকা। নিন্মমানের খাবার দেয়ার বিষয়ে বারবার জানানো হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ নেয়নি বলেও অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের।

হাসপাতালের ডায়েট ইনচার্জ শাহজাহান হোসেন বলেন, ২৫০ বেডের হাসপাতালে ২৫০ জন রোগীই খাবার পাবে। এছাড়াও ২৮টি করোনারি ইউনিটে বেডে খাবার দেওয়া হয়। বাড়তি যে ২০০-২৫০ জন থাকে তারা স্টিমেটের বাহিরে। নিয়ম মেনেই আমাদের চলতে হয়। আর জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কারণে খাবারের পরিমাণ একটু কমেছে।

হাসপাতালের আরএমও (ভানপ্রাপ্ত) ডা. আনোয়ার হোসেন জানান, হাসপাতালের ওয়ার্ডে পরিদর্শনে গেলে রোগীরা অভিযোগ করে না। যে দিন তদারকি করা হয় ওই দিন সব কিছু ঠিকঠাক থাকে। দুদিন পর আবার যা তাই হয়ে যায়। বিরক্ত প্রকাশ করে বলেন তাদেরকে আর কত কি বলবো, ডায়েট ইনচার্জ ঠিকাদারের সাথে যোগসাজে এসব অনিয়ম করে।
কেউ অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই অনিয়মের সঙ্গে যদি হাসপাতালের কেউ জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, বেডের বাইরে ভর্তি রোগীদের সরকারি খাবার দেয়ার নিয়ম নেই। আমরা চেষ্টা করি ভালমানের খাবার দেয়ার। দ্রব্যমূল্যের দাম তিন গুণ বেড়ে যাওয়াতে খাবারের পরিমাণ ও গুণগত মান দুইটাই কমেছে।
২০১২-২০১৩ সময়ের দ্রব্যমূল্যের যে রেট আজো মূল্য তালিকার কোন চেঞ্জ করা হয়নি। উচ্চ আদালতে রিট থাকায় গত ১০ বছর টেন্ডার হয় না। আগের ঠিকাদাররাই খাবার সরবরাহ করেন। যেনো সব কিছু দেখে মুখ বন্ধ করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই।
অবিলম্বে এহেনো সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন ভুক্তভোগী রূগী ও তার সজনেরা।


যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের রোগীদের নিন্ম মানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here