
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর বাউফলের চন্দ্রপাড়া গ্রামে নানা অপরাধ ও অপকর্মের হোতা একাধিক মামলার আসামী মমিন খান (গ্রাম পুলিশ) কর্তৃক একই এলাকার মোসলেম উদ্দিন মৃধাকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ পাওয়া গিয়াছে। আজ শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮ ঘটিকায় উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া এলাকায় মৃধাবাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
সরজমিনে জানা যায়, চাঁদার দাবিতে মোহাম্মদ শাহিন মৃধাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে জখম করার মামলায় গত ২১ আগস্ট বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতে বাউফল থানার চন্দ্রপাড়া গ্রামের সন্ত্রাসী মমিন চৌকিদারের ভাই দুলাল খানের জামিন বাতিল হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপরই মমিন খান ও তার পরিবার উক্ত মামলার বাদী মোঃ মোসলেম উদ্দিনকে মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দিয়ে আসছে। বাদী মামলা তুলে নিতে না চাইলে মমিন খান গংরা আজ শনিবার সকাল আটটায় চন্দ্রপাড়া মৃধা বাড়ির সামনে গিয়ে মোসলেম উদ্দিনকে প্রকাশ্য দিবালোকে খুন করার হুমকি দেয়। বাদী মোসলেম উদ্দিন বলেন, ২০১৫ সালে আমার বড় ছেলেকে চাঁদার দাবিতে এই আসামিরা হামলা চালিয়ে জখম করে। এ ঘটনায় বাউফল থানায় মামলা দায়ের হয়, মামলা নং- সেশন ৩০১/১৬। সেই মামলায় পটুয়াখালীর পিবিআই ৩১ জন আসামির বিরুদ্ধে ৩৮৫, ৩২৬, ৩২৫, ৩২৪, ৩২৩, ৩০৭, ৩৮০, ৩৭৯ ধারায় চার্জশিট প্রদান করেন। আসামীরা হাইকোর্টের জামিনে এসে আমাকে বিভিন্ন সময়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেয়। আমি বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে মমিন খান, দুলাল খান ও রহিম খানের বিরুদ্ধে জামিন বাতিলের আবেদন করি।
গত ২১ আগস্ট বিজ্ঞ আদালত শুনানি শেষে দুলাল খানকে কারাগারে প্রেরণ করেন। রহিম খানকে এনআইডি কার্ড নিয়ে যেতে বলেন। এবং মমিন খানের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি আদালত। এই সুযোগে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী, জাল-জালিয়াতিকারী বিভিন্ন অপকর্মের হোতা মমিন খান আজ সকাল বেলা স্ব-দলবলে হাজির হয়ে আমার বাড়ির সামনে এসে বলে, ‘আমার ভাইকে জেলখানায় আটকাইছো, মামলা তুলে নিবি, তা না হলে তোকে প্রাণে মেরে ফেলবো, তোর বাড়িঘর আগুন দিয়ে পোড়াবো, তোর ছেলের বাড়িঘর আগুন দিয়ে পোড়াবো, তোর ছেলেকে আগের মত কোপাবো। দুলালকে জামিনে এনে নেই, তারপর তোদের কে এলাকা ছাড়া করবো।’ এই মমিন খানের অন্যায়-অপকর্মে এলাকার সাধারন মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এজন্য মমিন খানের জামিন বাতিল চাচ্ছে এলাকাবাসী। পাশাপাশি দুলাল খানের জামিন যাতে না হয় সে দাবি জানাচ্ছে এলাকাবাসী। উল্লেখ্য, গ্রাম পুলিশ মমিন খানের বিরুদ্ধে মানহানি, ভায়োলেশন, জাল-জালিয়াতি, প্রতারণা ও চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে।













