মুঠো ফোনে কল এলে অক্সিজেন পোঁছে দিচ্ছে একদল তরুণ।

ফরহাদ হোসেন মিরসরাই প্রতিনিধিঃ

মুঠোফোনে কল এলে দিন-রাত উপেক্ষা করে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে ছুটে যান নির্দিষ্ট গন্তব্যে একদল তরুণ। মহামারি করোনায় আক্রান্ত ছাড়াও অন্য রোগে আক্রান্ত সঙ্কটাপন্ন রোগী কিংবা স্বজনার ফোন দিলেই বাসায় অক্সিজেন সিলিন্ডার ও পালস অক্সিমিটার নিয়ে হাজির হচ্ছেন তারা। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এ সেবা দেয়া হচ্ছে। যাদের অবস্থা বেশি খারাপ, তাদের হাসপাতালে ভর্তি করতে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

করোনাকালীন অক্সিজেনের তীব্র সংকটে সংগঠনটি মিরসরাইয়ে অসুস্থ রোগীদের অন্যতম ভরসাস্থলে পরিণত হয়েছে। উপজেলাবাসীর মধ্যে অনন্য দৃষ্টান্ত রাখছে সংগঠনের সদস্যরা। বর্তমানে মিরসরাই উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভায় করোনায় আক্রান্ত এবং মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে চলছে।  রোগী বাড়ায় অনেকের অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়ছে। রক্তের বন্ধনের এমন মহৎ উদ্যোগ কিছুটা আশার সঞ্চার ঘটিয়েছেন।

স্বেচ্ছাসেবক মো. সালাউদ্দিন জানান, আমরা অক্সিজেন সিলিন্ডার আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে যতদিন প্রয়োজন হয়, ততদিন পর্যন্ত ব্যবহারের সুযোগ রেখেছি। আমাদের এ ক্ষুদ্র সেবা যদি কারো জীবন রক্ষার উপায় হয়, তাহলে আমাদের কার্যক্রম সার্থক হবে। আমাদের চলমান কার্যক্রম বাড়াতে চাই। কিন্তু এর জন্য আরো অক্সিজেন সিলিন্ডার থাকা দরকার। স্বল্প সিলিন্ডার দিয়ে আমরা আক্রান্ত রোগীদের চাহিদা পূরণ করতে পারছি না। আমি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করবো।

স্বেচ্ছাসেবক রেজাউল রনি বলেন, সিলিন্ডারের সঙ্গে ক্যানোলা, ফ্লো মিটার, মাস্ক, অক্সিমিটার, পিপিই খুবই জরুরি। আমাদের পাশে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।

 

সংগঠনের অর্থ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন জানান, প্রথমে ৪টি সিলিন্ডার দিয়ে শুরু করেছি এরপর বন্ধু, বান্ধব পরিচিত বড় ভাইদের সহযোগিতায় এখন ১৪টি সিলিন্ডার দিয়ে সেবা দিচ্ছি। তবে মিরসরাই উপজেলায় যে পরিমাণ করোনা আক্রান্ত রোগী বাড়ছে, সে তুলনায় সিলিন্ডার অপ্রতুল। প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গা থেকে অক্সিজেনের জন্য কল আসে। আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, উপজেলায় আমাদের ৭৫ জন সদস্য রয়েছে। কোনো রোগীর অক্সিজেনের জন্য কল আসলে নিজস্ব মোটরসাইকেল যোগে পৌঁছে দিচ্ছি।

২০১৫ সাল থেকে রক্তের বন্ধনে মিরসরাই সংগঠনটি রক্তদান, রক্ষের গ্রুপ নির্ণয়, থ্যালাসেমিয়া বিষয়ক সচেতনতা, শীতবস্ত্র সহ বিভিন্ন সামাজিক কাজে সক্রিয় ছিল। করোনা মহামারির শুরু থেকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে জনসচেতনতা মূলকসহ করোনা সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করে আসছে।


মুঠো ফোনে কল এলে  অক্সিজেন পোঁছে দিচ্ছে একদল তরুণ।

Share this news as a Photo Card

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here