পঞ্চগড়ে রিসোর্ট এর আড়ালে রমরমা জুয়া ও মাদক ব্যবসা

দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ে’র তেঁতুলিয়া উপজেলায় রিসোর্ট এর আড়ালে জুয়া, মাদক সহ বিভিন্ন অপকর্মের রমরমা ব্যবসা চলছে। উপজেলার ৫নং বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের ডাহুক নদীর পার ঘেঁষে গড়ে ওঠা ডাহুক টি রিসোর্ট এর ভেতরে চলছে এই মাদক সেবন ও বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম। সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী (১-জানুয়ারি) ২০২২ ইং তারিখে সরেজমিন ঘুরে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। রিসোর্ট এর ভিতরে প্রবেশের পর সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে রিসোর্টের দ্বায়িত্বে থাকা কর্মচারীরা অপকর্মের আলামত লুকিয়ে ফেলতে শুরু করে। পরে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে ভিডিও চিত্র ধারণ করা শুরু করলে, প্রচুর পরিমাণে বিদেশী মদের খালি বোতল, জুয়া খেলার সামগ্রী সহ অসৎ কাজে ব্যবহৃত নানা ধরনের জিনিসের দেখা মিলে।

পরে বিষয়টি নিয়ে দ্বায়িত্বে থাকা মেনেজার ও কর্মচারীদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা এসব বিষয়ে কিছু জানিনা। সাংবাদিক এর প্রশ্ন, যদি না জেনে থাকেন তবে এতো প্রচুর পরিমাণে বিদেশী মদের বোতল ও জুয়া খেলার সরঞ্জাম আপনারা সংরক্ষণ করলেন কীভাবে এবং এগুলো লুকিয়ে রাখছেন কেন ? এমন প্রশ্নের উত্তরে তারা বলেন, আমাদের এই ডাহুক টি রিসোর্ট এখনো উদ্বোধন করা হয় নি। মালিকের ছেলে একজন বাইকার। বিভিন্ন এলাকা থেকে বাইকাররা তেঁতুলিয়া ঘুরতে এলে অনেক সময় এখানে রাত্রি যাপন করেন। তারা ব্যাগের ভেতর কি নিয়ে আসে আমারা জানিনা।

তাছাড়া যারা এখানে থাকতে আসেন বেশির ভাগই মালিকের মেহমান। স্থানীয়রা বলেন, আমাদের শান্তি পূর্ণ এলাকায় এ ধরনের অপকর্ম দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। এই রিসোর্ট বন্ধ সহ দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান স্থানীয় সাধারণ মানুষ। রিসোর্ট এর মালিক ও পঞ্চগড় স্মল টি গার্ডেন অনার্স অ্যাসোসিয়েশন এর সভাপতি মোঃ আমিরুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আপনারা রিসোর্ট এর ভিতরে প্রবেশ করার পূর্বে তো আমাকে জানান নি। এ বিষয়ে আমি কি বলবো। এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সাঈদ চৌধুরি বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়েছি। রিসোর্ট এখনো চালু হয় নি। মাদকের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা জিরো টলারেন্স বাস্তবায়নে আমরা বদ্ধপরিকর।

মাদকের বিষয়ে কোন ছাড় দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ৫নং বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ তারেক হোসেন বলেন,আমরাও শুনেছি ওখানে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ চলে। আমি এবিষয়ে গ্রাম পুলিশদের নজরদারি বাড়িয়ে দিয়ে ব্যাবস্থা নিতে বলছি। যেহেতু সাংবাদিকরা সেখানে কিছু আলামত পেয়েছে। এখন থেকে কোনো অসামাজিক কিছু দেখলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্তা নেওয়া হবে।

এবিষয়ে পঞ্চগড় জেলা পুলিশ সুপার এসএম সিরাজুল হুদা পিপিএম বলেন, বিষয় টি আমি অবগত ছিলাম না। এখন থেকে পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে।


পঞ্চগড়ে রিসোর্ট এর আড়ালে রমরমা জুয়া ও মাদক ব্যবসা

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

0FansLike
3,912FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles