
মোঃ মনিরুল ইসলাম খান,গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম যেন এক নতুন মুশফিককে দেখতে পাই। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেকে আপডেট করে যে স্টাইকরেটে আয়ারল্যান্ড সিরিজ শুরু করেছে মুশফিক তা প্রসংশনীয়। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজের প্রথম ম্যাচের ইনিংস গুলোই বলে দেই মুশফিক এখনও ফুরিয়ে যায়নি।
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট টিমের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। বেশকিছুদিন ধরে তাকে নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। অনেকেই বলছেন তার বয়স হয়ে গেছে তার জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়া উচিত। শুধু মুশফিকই নয়, মাহমুদউল্লাহকে নিয়েও এমন মন্তব্য এখন সারাদেশ চলছে। বিসিবিও মুশফিক, মাহমুদউল্লাহকে অবহেলা করছে, এটা এখন ওপেন সিক্রেট। তাই বিসিবিও তরুণ নির্ভর টিম করতে কাজ করছে। যার ফলে আয়ারল্যান্ড সিরিজে ওডিআই থেকেও মাহমুদউল্লাহকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
অ্যায়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক সিরিজের ১ম দুই ম্যাচেই মুশফিক জাদুকরী ইনিংস খেলেছে। এমন মুশফিককে এর আগে দেখা যায়নি কখনও। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচে মুশির ব্যাটে আসে মাত্র ২৬ বলে ৩ চার ও ৩ ছয় এর মাধ্যমে ৪৪ রান। এই ম্যাচ মুশি ব্যাটিং করেন ৫ নাম্বারে। যে পজিশন নিয়মিত ব্যাট করতো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচে বাংলাদেশ দল ৩৩৮-৮ রানের পুজি পাই, যা ছিল ঐদিন পর্যন্ত ওডিআই ক্রিকেটের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। যেখানে বড় অবদান ছিলো মুশফিকের ফিনিশিংয়ের।
আবার ২য় ম্যাচে সিলেট স্টেডিয়ামে ৫ নাম্বারে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৬০ বলে, ১৪ চার ও ২ ছয়ের মাধ্যমে ইনিংসের শেষ বলে রান নিয়ে, টর্ণেডো সেঞ্চুরি করে। যা ওডিআই ক্রিকেটে বাংলাদেশীদের মধ্যে দ্রুততম সেঞ্চুরি। এর আগে ২০০৯ সালে সাকিব আল হাসান জিম্বাবুয়ের সাথে ৬৩ বলে সেঞ্চুরি করেছিল। মুশির সাকিবের করা ১৪ বছর আগের এই রেকর্ড ভেঙ্গে দিলেন। মুশির অস্বাধারণ ফিনিশিংয়ে ইনিংসের উপর ভর করে বাংলাদেশ দল পাই ৩৪৯-৬ রানের দলীয় স্কোর। এটি ওডিআই ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।ওডিআইতে এতো সুন্দর ইনিংস বাংলাদেশ দল কখনও দেখেনি। সিনিয়রদের এমন পারফর্মেন্স বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে এগিয়ে নিয়ে যাবে অনন্য উচ্চতায়।





