মাদকের লেলীহানে আসক্ত যুবসমাজ।

হৃদয় সূত্রধর
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ

জীবননাশের প্রধান ওষুধ হিসাবে পরিচিত মুখ মাদক যা গ্রহনের ফলে মৃত্যু নিশ্চিত না হলেও ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয় এর সংজ্ঞায়িত রূপ যে সকল দ্রব্য গ্রহনের ফলে মানব দেহের ক্ষতি সাধন হয় এবং দেহ মনের শারিরীক ও মানসিক অবস্থার নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে তাকেই মাদক দ্রব্য বলা হয়।যা গ্রহনের ফলে ব্যক্তির ঐ দ্রব্যের উপর নির্ভরশীল ও পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পায়। একটি দেশের সকল উন্নয়ন অগ্রগতি নির্ভরশীল তরুন প্রজন্মের কাছে যেখানে কবির ভাষায় বলা হয় আঠারো বছর বয়সে সকল কিছুকে মুকাবেলা করে নিজের আপন শক্তিতে এগিয়ে চলে নিজের স্বপ্নকে সফল করতে।কিন্ত ক্ষানিকটা পথ পাড়ি দিতেই কেউ কেউ সংঘের সঙ্গীতে আসক্ত হয়ে পড়ে বা নিজ থেকেই আবার কেউবা সমাজের চলমান গতিতে মাদকের মতো বিষাক্ত দ্রব্যের উপর আসক্ত হয়ে নিজের রাস্তা নিয়ে যায় অন্ধকারের সেই মৃত্যু গহীন দেশে। বেশিরভাগ স্কুল কলেজ এমনকি উচ্চশিক্ষিত জায়গার মতো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই মাদকের বেড়াজালে আসক্ত হওয়ার ফলে সমাজের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পড়ে নিজের হাতে গড়া স্বপ্ন ভেঙে৷ চুরমার হয়ে যায়, বিঘ্নিত হয়ে পড়ে পরিবারের চাওয়া পাওয়া হারিয়ে যায় নিজের রাস্তায় দেখা সতেজ সবুজ স্বপ্ন৷স্পষ্টতই বিড়ি, সিগেরেট, তামাক পাতা তিনবেলা খাবারের মতো জীবনে নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়ায় তাদের নিকট। বাংলাদেশে ১৯৯০ সালে মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার রোধ,মাদকের ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে গণসচেতনতা বিকাশ ও মাদকাসক্তদের চিকিৎসা এবং পূণর্বাসনকল্পে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইন ১৯৯০ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়।তার ফলেও এদেশের কিছু অসাধু ব্যক্তিবর্গ শক্তিশালী নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে প্রশাসনের আড়ালে দেশের সকল স্তরে মাদক পৌছেঁ দিচ্ছে যুবকের হাতে যা সম্পূর্ণ দেশ ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো নেতিবাচক কর্মকাণ্ড।একে রোধ করা সময়ের দাবী। তাহলে সহজেই বলতে পারি মাদক সমাজ তথা রাষ্ট্রের জন্য কতটুকু কুফল বয়ে যাচ্ছে আপন গতিতে। তবে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে অনেকটা কমে এসেছে মাদক সেবন, বিভিন্ন ভাবে যেমন রেডিও, টেলিভিশন, ম্যাগাজিন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মাদক পরিহারে সচেতনতা সৃষ্টি করে যাচ্ছে ইদানীং আরো দেখা যায় বিভিন্ন টেলিফিল্ম নাটকের মাধ্যমে মাদকের সেবন থেকে দূরে রাখতে সচেতন করে আসছে।

সমাজের প্রত্যেকটা নাগরিকের সচেতন হওয়া উচিত কেননা মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া নিজ থেকে নিজের সন্তানকে সাংস্কৃতিক মনোভাব জাগিয়ে তুলতে সাহায্য করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেননা তা নিজ পরিবার থেকেই অধিক সম্ভবপর । সমাজের প্রত্যেকে নিজ দায়িত্বে সচেতন থাকুন দেশ উন্নয়নে এদেশের যুবক হীরার চেয়েও খাটি সম্পদ একে সতেজ রাখতে পাশে থাকুন।


মাদকের লেলীহানে আসক্ত যুবসমাজ।

Share this news as a Photo Card

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here