
মোঃ নেজারুল ফরায়জী
১৭৫৭ সালে ভাগীরথী নদীতে ডুবে যাওয়া বাংলার স্বাধীনতা; একশ বছরের অনুভূতিশূণ্য বৈষম্য আর ধর্মীয় পবিত্রতায় ছুটে আসা এনফিল্ড রাইফেলের টুটের বিরোধী বুক চিতিয়ে প্রতিবাদ করা মঙ্গল পান্ডের মহাবিদ্রোহ; স্বত্ব বিলোপ নীতির অগ্রাহ্য করা দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ।
শোষণের স্ট্রিম রোলিংয়ের বিপক্ষে প্রতিষ্ঠিত কংগ্রস আর মুসলিম লীগের মাধ্যমে গড়ে উঠা উপমহাদেশের রাজনৈতিক রেনেসাঁস। বঙ্গভঙ্গের পক্ষ বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার দুই বাংলা আর ধর্মের সাম্প্রদায়িক অনুভূতিকে নিয়ে লড়ে যাওয়া স্বদেশী আর বয়কট আন্দোলন।
সমান্তরাল গতিতে এগিয়ে যাওয়া খিলাফত আর অসহযোগ আন্দলোনে অহিংসতার নেতা গান্ধীজি ও মাওলানা সহোদর। দুঃসাহসিক মাস্টারদা, বিস্ময় বালক ক্ষুদিরাম আর পাহাড়তলী অগ্নিকন্যা প্রীতিলতা।
সাম্প্রদায়িক সংকটে জন্ম নেওয়া মহৎ নেতা জিন্নাহ, নেরেহু আর ফজলুল হক। মাওলানা আজাদের “ভারত ছাড়” কিংবা সুভাস বসুর সশস্ত্র আন্দোলন। অতঃপর ভারতবর্ষে ধর্মের ভিত্তিক জন্ম নেওয়া রাষ্ট্র ভারত আর পাকিস্তান। পূর্ব আর পশ্চিমে ভাগ হওয়া পাকিস্তানের মিল ছিলো শুধু ধর্মের আর উদ্দেশ্য ছিলো বৈষম্যের।
বৈষম্যের শুরু ভাষায়, আর এই আন্দোলনে জীবন দেওয়া সালাম, বরকত,রফিক আর শফিউর বিশ্বের দরবারে লিখেন এক ইতিহাস রক্ত দিয়ে কেনা ভাষার নাম বাংলা। ফজলুল হকের যুক্তফ্রন্ট, ৫৬ এর পাকিস্তান সংবিধান, ৬২ তে শিক্ষায় আন্দোলন। অতঃপর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফা, “বাংলার ম্যাগনাকার্টা”। আন্দোলন আর সংগ্রামের ধারাবাহিকতা বাঙালী জাতীয়তাবাদের উত্থান, ৬৯ এর গনঅভ্যুত্থান আর ৭০ এর নির্বাচন।
অতঃপর বাঙালি জাতীর জনক ৭১-এ ঘোষণা দেন এক দফার, স্বাধীকার থেকে স্বাধীনতা। তার তর্জনীর আহ্বানে ঘরে ঘরে দুর্গ তৈরি হয়, যা আছে তা নিয়েই শুরু হয় সংগ্রাম। ৯ মাসে ৩০ লাখে বীর সৈনিকের রক্ত ২ লাখ মায়ের সম্ভ্রমে অর্জিত আমার লাল-সবুজের পতাকা।
ভাগীরথীতে ডুবে যাওয়া সূর্য উদিত হয় রেসকোর্স ময়দানে। বাংলাদেশের ইতিহাস লিখে শেষ হওয়ার নয়, এই জাতি আবেগের,অর্জনের, সম্ভবের।
মোঃ নেজারুল ফরায়জী
B.Ed, M.ED
Institute of Education and Research
University of Dhaka
Teaching Fellow
Teach For Bangladesh













