

নিজস্ব প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন(বিপিসি) ডিজেলের দাম ২৩ শতাংশ বাড়ানোর পর শুক্রবার সকাল থেকে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ধর্মঘট শুরু হয়।
সরকার আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে দামের সামঞ্জস্য রাখতে এবং জ্বালানি তেলের লোকসানের মুখে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করলে তার প্রতিবাদে গত তিন দিন সারাদেশে নগরপরিবহন ও দূরপাল্লার বাসের পাশাপাশি পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। শনিবার থেকে লঞ্চও বন্ধ রাখা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তিন দিন ধরে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

এ নিয়ে রোববার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ঢাকার বনানীতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) দপ্তরে বিআরটিএর চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসাধারণ সম্পাদক রাকেশ ঘোষ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সংগঠনের নেতারা।
সবশেষ ২০১৫ সালে নগর পরিবহনে বাসের ভাড়া প্রতি কিলেমিটারে ১ টাকা ৭০ পয়সা এবং মিনিবাসের জন্য ১ টাকা ৬০ পয়সা নির্ধারণ করে দেয় সরকার। বাসে ৭ টাকা এবং মিনিবাসে সর্বনিম্ন ভাড়া ৫ নির্ধারণ করা হয়। আর ২০১৬ সালে দূরপাল্লায় ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ১ টাকা ৪২ পয়সা।
ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়ে গত বৃহস্পতিবার বিআরটিএর চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো পরিবহন মালিক সমিতির প্রস্তাবে বলা হয়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরসহ সারাদেশের দূরপাল্লার রুটে গত ৮ বছর কোনো ভাড়া বাড়ানো হয়নি। কিন্তু এ সময়ে গাড়ির চেসিস, টায়ার, টিউব, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং সব ধরনের কর ও ফি বেড়েছে। এ কারণে গাড়ির পরিচালন ব্যয় ‘কয়েকগুণ’ বেড়ে গেছে।
পরিবহন মালিক সংগঠনের নেতাদের বরাতে, এবার বাসের ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাবে ২০১৯ সালে দূরপাল্লার বাসের ভাড়া বাড়িয়ে ২ টাকা ৭ পয়সা করার আবেদন করেছিলেন তারা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সঙ্গে ভাড়া পর্যালোচনার বৈঠকে তাদের এই প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে।
পরিবহন মালিকদের সংগঠনগুলোর মতে” নতুন করে কত টাকা ভাড়া বাড়ানো যায় তা বিআরটিএ নির্ধারণ করবে। কস্টিং ঠিক করার একটা কমিটি আছে, তারা মালিকদের সঙ্গে আলাপ করে ঠিক করবে।”













