

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
পটিয়ার কাশিয়াইশ ইউনিয়নে নির্বাচনের চারদিন পূর্বে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসময় পুরো নয়াহাট ও বুধপুরা এলাকা যেন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন তপন সর্দার, সাব্বির হোসেন, রোমান, রাসেল, জাবেদ, তারেক, রায়হান। বর্তমানে ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় উপজেলার কাশিয়াইশ ইউনিয়নের নয়াহাট এলাকায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবুল কাসেম (নৌকা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ কাইছের (আনারস) সমর্থকদের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, আগামী ২৬ ডিসেম্বর চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচন। এ নির্বাচনে উপজেলার ১৭ ইউনিয়নের মধ্যে ১৪টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে শোভনদন্ডী, বড়লিয়া, দক্ষিণ ভুর্ষি ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় মেম্বারদের পদে ভোটগ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে মঙ্গলবার প্রচার-প্রচারণা চলাকালে কাশিয়াইশ নয়াহাটে তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে নৌকা ও আনারস প্রতীকের সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, নৌকার ক্যাম্প ভাঙচুর, ২টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও প্রাইভেট কার ভাঙচুর হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে পটিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিক রহমান, পটিয়া থানার ওসি রেজাউল করিম মজুমদার, ওসি (তদন্ত) রাশেদুল ইসলামসহ একাধিক পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ নিয়ে উভয় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এনেছেন। ঘটনার পরই নৌকার প্রার্থী আবুল কাসেম এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার পূর্ব নির্ধারিত সভা শেষে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ.ক.ম. শামসুজ্জামান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক হারুনুর রশিদ ফিরে এলে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ কাইছের নেতৃত্বে নৌকার অফিসে ভাঙচুরসহ তাণ্ডব চালানো হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ কাইছ জানিয়েছেন, নৌকার প্রার্থী আবুল কাসেমের অনুসারীরা অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালান। হামলা, ভাঙচুরের সঙ্গে আমি কিংবা আমার কোনো সমর্থক জড়িত নয়। তিনি তার ক্যাম্প ভাঙচুরের অভিযোগ আনেন।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিক রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান এবং নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্ন ঘটালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন। পটিয়ার কাশিয়াইশে নির্বাচনী প্রচারণার শেষ মুহূর্তে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ক্যাম্প ভাঙচুর করা হয়।










