
নিখিল বিশ্বাস,স্টাফ রিপোর্টার খোকসা কুষ্টিয়া
কুয়াশা ভেদ করে যখন সূর্যের আলো প্রকৃতিতে আসে, তখন ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে শুরু করে দিগন্তবিস্তৃত আমনের ক্ষেত। সোনামাখা রোদে মাঠে মাঠে ঝলমলিয়ে ওঠে সোনালি ধান। সেই ধানের ঝিলিক যেন ছড়িয়ে পড়েছে কুষ্টিয়ার খোকসার কৃষকদের চোখেমুখে।
২০’নভেম্বর সোমবার দুপুরে উপজেলার শোমসপুর মাঠে কৃষকের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের ধান কাটার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবারের নবান্ন উৎসব। সেখানে এলাকার কৃষকদের সঙ্গে ধান কাটায় অংশ নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন বিশ্বাস, কৃষি কর্মকর্তা সবুজ কুমার সাহা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিধান কান্তি হলদার, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা সাহিনা বেগমসহ অনেকে।
খোকসা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৬হাজার ৭২৫ হেক্টরের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ৬ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের চাষ হয়েছে।নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত ১৭৫ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ বেশী হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিপন বিশ্বাস বলেন, আমাদের দেশের অতিথি ঋতু শীতকাল। এই সময়ে প্রকৃতি আমাদের জীবন ধারার মাঝে ব্যাপক পরিবর্তন এনে দেয়। শীতে শহরের লোকজনের কাছে পরিচিত-কাকের ডাক, গাড়ির হর্ণ আর চায়ের কাপ। পক্ষান্তরে গ্রামের শীত মানে-কুয়াশার জালে ছিন্ন ভিন্ন করে রোদের স্পর্শ পা ভিজিয়ে দেয় দুবলা ঘাস। এ দিক থেকে গ্রামে যে নবান্ন উৎসব করা হয়, সেটাই মূলত প্রধান এবং আসল নবান্ন উৎসব। এখানে আমরা নতুন ধানকে স্পর্শ করতে পারি। খেতে পারি নানা রকম মুখরোচক পিঠা। সেই হিসেবে শহুরে জীবনে যে নবান্ন উৎসব করা হয়, সেটা একটা প্রতীকী মাত্র। আমরা যাতে আমাদের উৎসকে ভুলে না যাই এবং এটি সারা জীবন ধরে রাকতে পারি সে জন্য তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান।
এর আগে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) বিধান কান্তি হলদার। তিনি কৃষি খাতে সরকারের নান রকম সহায়তা প্রদানের কথা তুলে ধরে উন্নত চাষাবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করেন।
খোকসা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সবুজ কুমার সাহা বলেন, ‘এ উৎসব বাঙালি জাতিকে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ করে। বাংলাদেশ কৃষিতে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এখন আমরা বিশ্বে ধান উৎপাদনে তৃতীয়, সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, আম উৎপাদনে সপ্তম ও আলু উৎপাদনে সপ্তম স্থান অধিকার করে আছি।’













