
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা একটি গণমামলা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ১৯২ জনের নাম উল্লেখ করে দায়ের করা ওই মামলার এজাহারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চরভদ্রাসন উপজেলা শাখার সভাপতি ও সমাজসেবক মুফতি রায়হান জামিলকে আসামি করা হয়েছে। তবে ঘটনার দিন তিনি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন বলে দাবি করেছেন। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টা ১০ মিনিটের দিকে ভাঙ্গা থানার মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া ব্রিজ এলাকায় সড়ক অবরোধ ও চলন্ত যানবাহনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মো. কাইয়ুম সিকদার বাদী হয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ভাঙ্গা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় মোট ১৯২ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বিষয়ে বাদীর একটি কথোপথন ভাইরাল হয়েছে। অডিও রেকর্ড টিতে শোনা যায় বাদী মামলার বিষয়ে কিছুই জানে না ভাঙ্গা থানার ওসি বাদীকে থানায় ডেকে নিয়ে একটা কাগজে সই করায়, পরে জানতে পারে ১৯২ জনকে আসামি করে যে চাঞ্চল্যকর মামলাটি হয়েছে সেই মামলার বাদীই উনি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভাঙ্গা থানার ওসি’ র মুঠোফোনে কল করলে উনি রিসিভ করেন নাই। এজাহারে গাড়ির ভাঙা কাচ, ইটের খোয়া, পাথরের খোয়া ও বাঁশের লাঠি জব্দের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে মুফতি রায়হান জামিলকে মামলার ১৯১ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
এদিকে নিজের নাম জড়ানোর বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মুফতি রায়হান জামিল বলেন, ঘটনার দিন তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন স্থানে অর্থাৎ রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। তার এই দাবির পক্ষে একাধিক ডিজিটাল ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণও তাঁর হাতে রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমাকে সামাজিকভাবে হেয় ও রাজনৈতিকভাবে দমন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আমাকে জনসেবা ও অন্যায়ের প্রতিবাদ থেকে বিরত রাখা যাবে না।”
এদিকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চরভদ্রাসন উপজেলা শাখা। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঢালাওভাবে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সমাজসেবকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের গায়েবি মামলা দায়ের সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত ও হয়রানিমূলক। অবিলম্বে মুফতি রায়হান জামিলসহ নিরপরাধ ব্যক্তিদের নাম এই মামলা থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ ধরনের ঢালাও মামলার নেপথ্যের সত্যতা ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলেও নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।













