
ইতি খানম,নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি
‘রান ফর বাংলাদেশ, রান ফর সেফটি’ স্লোগানে নরসিংদীর রায়পুরায় অনুষ্ঠিত হয়েছে রায়পুরা ম্যারাথন ২০২৬।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলা চত্বর থেকে শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতায় দেশি-বিদেশি প্রায় এক হাজার দৌড়বিদ অংশ নেন। গ্রামীণ সড়ক, সবুজ প্রকৃতি আর হলুদ ফসলের মাঠের মধ্য দিয়ে দৌড়ে অংশ নেন বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ। তাঁদের অংশগ্রহণে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
ভোর ৪টায় উপজেলা চত্বরে ম্যারাথনের উদ্বোধন করেন নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল। পরে ভোর ৫টায় প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। দৌড়বিদেরা উপজেলা চত্বর থেকে নরসিংদী-রায়পুরা আঞ্চলিক সড়ক ধরে হাসনাবাদ ১০ নম্বর সেতু পর্যন্ত গিয়ে আবার উপজেলা চত্বরে ফিরে আসেন।
রায়পুরা উপজেলা প্রশাসন ও রায়পুরা রানার্স কমিউনিটির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ ম্যারাথনে ছিল চারটি ক্যাটাগরি। এর মধ্যে ৪২ কিলোমিটার ফুল ম্যারাথনে ২৭০ জন, ২৫ কিলোমিটার হাফ ম্যারাথনে ২০০, ১০ কিলোমিটার দৌড়ে ৪০০ এবং শিশুদের এক কিলোমিটার দৌড়ে ১৩০ জন অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ম্যারাথনের স্পনসর ওয়াটসন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সহ-সম্পাদক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা, স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহধর্মিণী ও রায়পুরা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সভাপতি জান্নাতুল হক শাপলা, রায়পুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. ফরিদ উদ্দিন, রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান, রায়পুরা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, নাজমুল হক ভূইয়া মোহন, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আলফাজ উদ্দিন মিঠু, সদস্য সচিব নূর আহমেদ চৌধুরী মানিক, রায়পুরা রানার্স কমিউনিটির পরিচালক সবুজ শিকদার সহ অন্যরা। প্রতিযোগীদের নিরাপত্তা দিতে প্রায় ২০০ স্বেচ্ছাসেবকের পাশাপাশি পুলিশ, আনসার ও গ্রামপুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দৌড়বিদদের উৎসাহ দেন।
প্রতিযোগীদের অনেকে জানান, তাঁদের কাছে জয়-পরাজয়ের চেয়ে সুস্থ থাকা এবং দৌড়ের মাধ্যমে শরীর ও মন ভালো রাখাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত দৌড়ানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে তাঁরা বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত ম্যারাথনে অংশ নেন। রায়পুরার গ্রামীণ পরিবেশে দৌড়ানোর অভিজ্ঞতাও তাঁদের কাছে ছিল উপভোগ্য।
ঢাকা থেকে আসা সত্তরোর্ধ্ব দৌড়বিদ সামসুল হাসান জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ম্যারাথনে অংশ নিচ্ছেন। বয়স বাড়লেও শরীর ও মন ভালো রাখতে দৌড় অব্যাহত রেখেছেন।
ঢাকা থেকে আসা প্রতিযোগী সুবাহা মাহাদি সিদ্দিকী বলেন, ‘মায়ের অনুপ্রেরণায় আমি দৌড় শুরু করি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিই। রায়পুরায় আয়োজিত এ ম্যারাথন আমার কাছে বিশেষভাবে ভালো লেগেছে।
সোয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. কবির উদ্দিন বলেন, এর আগেও আমি একাধিকবার রায়পুরার ম্যারাথনে এসেছি। সত্তরোর্ধ্ব বয়সেও ৪২ কিলোমিটার দৌড়ে অংশ নিতে পেরে আমি আনন্দিত।
ম্যারাথনের স্পনসর ওয়াটসন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল জানান, এই ম্যারাথনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় এক হাজার প্রতিযোগী অংশ নিয়েছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ ও প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদের বিএনপির কর্মীরাও এগিয়ে এসেছে এবং ইভেন্টটির শতভাগ নিরাপত্তা দিয়ে প্রোগ্রাম সফল করেছে। এজন্য আমার পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। একই সাথে ভবিষ্যতে যাতে আরও বেশি দৌড়বিদকে নিয়ে আরো বড় পরিসরে ম্যারাথনের আয়োজন করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।
আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও রায়পুরা রানার্স কমিউনিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজনটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশ, প্রশাসন, সাংবাদিক, ভলান্টিয়ার সবাই এ আয়োজনটিকে সুন্দরভাবে সফল করে অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন। এ আয়োজনে সহযোগিতা করায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
রায়পুরা রানার্স কমিউনিটির অ্যাডমিন ও আয়োজক কমিটির সমন্বয়ক সবুজ শিকদার বলেন, তরুণদের সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যেই এ ম্যারাথনের আয়োজন। রায়পুরাকে দেশ-বিদেশে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা এবং মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।













