‘কাজী নজরুল ইসলাম: স্বাধীনতা ও মানবতার বিশ্বজনীন কণ্ঠস্বর’ শীর্ষক আলোচনা সভা

0
3

অনলাইন ডেস্ক

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসাম্প্রদায়িক, মানবতাবাদী, সাম্যবাদী ও স্বাধীনতার চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ‘Kazi Nazrul Islam: The Universal Voice of Freedom and Humanity’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভা আজ রবিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির মাল্টিপারপাজ হলে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বিদ্রোহের কবি নন; তিনি স্বাধীনতা, সাম্য, মানবমর্যাদা, অসাম্প্রদায়িকতা ও বিশ্বমানবতার এক অনন্য কণ্ঠস্বর। তাঁর সাহিত্য ও সংগীত নিপীড়ন, বৈষম্য, অন্যায় ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে শক্তিশালী করেছে। নজরুলের সৃষ্টির মূল শক্তি ছিল মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান।

তিনি বলেন, নজরুলের চিন্তা ও দর্শনের আবেদন কোনো নির্দিষ্ট সময়, সমাজ বা ভৌগোলিক সীমারেখায় আবদ্ধ নয়। স্বাধীনতা ও মানবতার যে আকাঙ্ক্ষা বিশ্বমানবকে যুগে যুগে অনুপ্রাণিত করেছে, নজরুলের সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম তারই শক্তিশালী প্রকাশ। বর্তমান বিশ্বে সংঘাত, বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতার প্রেক্ষাপটে নজরুলের সাম্য, মানবতা ও সম্প্রীতির দর্শন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।

মন্ত্রী বলেন, নজরুলের চেতনা ও সৃষ্টিকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও গভীরভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার ২০২৬ সালকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে পালন করছে। এ উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কবিতা, আবৃত্তি, সংগীত, প্রবন্ধ, রচনা ও অন্যান্য সৃজনশীল বিষয়ে প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে নজরুলের জীবন, সাহিত্য, দর্শন ও চেতনাকে শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে।

তিনি বলেন, নজরুলচর্চাকে শুধু আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষা, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতার জন্য তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম চিরআধুনিক এবং তাঁর আবেদন সর্বজনীন। তাঁর সাম্যবাদী ও মানবতাবাদী দর্শন একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে। নজরুলের চেতনাকে ধারণ করে নতুন সমাজ বিনির্মাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সৃষ্টিকে দেশ-বিদেশে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নজরুলের সাহিত্য, সংগীত, মানবতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে প্রাতিষ্ঠানিক ও সৃজনশীল উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. মোশাররফ হোসেন কীনোট বক্তব্য উপস্থাপন করেন। কবি আব্দুল হাই শিকদার আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও দর্শন বাঙালির আত্মপরিচয়, স্বাধীনতা ও মুক্তির চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। একই সঙ্গে তাঁর মানবতাবাদী দর্শন জাতীয় সীমানা অতিক্রম করে বিশ্বমানবতার এক অভিন্ন মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে। তাই নজরুলকে নতুন প্রজন্মের কাছে উপস্থাপন করা মানে শুধু একজন কবির সাহিত্যচর্চা নয়; বরং স্বাধীনতা, সাম্য, ন্যায়, মানবিক মর্যাদা ও সম্প্রীতির মূল্যবোধকে সমাজে আরও সুদৃঢ় করা।

অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী, ফরেন সার্ভিস একাডেমির প্রশিক্ষণার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


‘কাজী নজরুল ইসলাম: স্বাধীনতা ও মানবতার বিশ্বজনীন কণ্ঠস্বর’ শীর্ষক আলোচনা সভা

Share this news as a Photo Card

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here