
শাহরিয়ার রহমান শফি,বিয়ানীবাজার (সিলেট) প্রতিনিধি:
বরেণ্য কবি ও সাংবাদিক ফজলুল হক (৬১) চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন। বুধবার বেলা ২টায় বিয়ানীবাজার পৌরশহরের পিএইচজি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জানাযার নামাজ শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট নগরীর বাসায় তিনি ইন্তেকাল করেন।
কবি ফজলুল হকের মৃত্যুর সংবাদে সিলেট-বিয়ানীবাজার তথা প্রবাসীদের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের নিউজ ফিডে তাঁকে নিয়ে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন সর্বস্থরের মানুষ। স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন।
কবি ফজলুল হক মৃত্যুকালে স্ত্রী,২ পুত্র,এক কন্যা এবং অসখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ইত্তেফাক’র উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ১৯৬১ সালের ১ সেপ্টেম্বর সিলেট জেলার প্রাচীনতম জনপদ পঞ্চখণ্ডের (বর্তমান বিয়ানীবাজার উপজেলার) কসবা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
ফজলুল হক কবিতা লেখার পাশাপাশি লিখেছেন গদ্য ও গীতিকবিতা। তিনি বাংলাদেশ বেতারের খ্যাতিমান গীতিকার। একজন প্রগতিশীল সংস্কৃৃতিকর্মী ও সাংবাদিক হিসেবে তার সুনাম আছে। কবিতা ও গদ্য রচনায় রয়েছে তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘পৃথক দংশন’, ‘কবির জন্মদিন’, ‘শঙ্খ ঘোষের সঙ্গে নির্বাসনের দিনে’। সম্পাদনা গ্রন্থ ‘তপোধীর ভট্টাচার্য :জীবন ও কর্ম’ ইত্যাদি।
আশির দশকের বাংলাদেশের সমকালীন কবিতার এই অগ্রণী কবির কবিতা রচনার মূল বিষয়বস্তু হলো বর্ণময় গ্রাম ও শহর। ঢাকা ও কলকাতা থেকে প্রকাশিত পত্রপত্রিকা এবং সাহিত্য সংকলন ও সাময়িকীতে নিয়মিত তার লেখা প্রকাশিত হয়।
দার্শনিক পণ্ডিত রঘুনাথ শিরোমণি, শ্রীচৈতন্য পার্ষদ শ্রীবাস পণ্ডিত, কবি বৃন্দাবন দাস, মহেশ্বর ন্যায়লঙ্কার, শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. জি সি দেব ও কবি তাত্ত্বিক অধ্যাপক ড. তপোধীর ভট্টাচার্য প্রমুখের জন্মভূমি পিতৃভূমি পঞ্চখণ্ডের মনীষা ও পরম্পরার নিকটতম প্রতিনিধি এই কবি।
এদিকে মরহুমের জানাযার নামাজ পূর্ববর্তী আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক দ্বারকেশ চন্দ্র নাথ, শিক্ষাবিদ আলী আহমদ, উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব,ভাইস চেয়ারম্যান মো. জামাল হোসেন,পৌর মেয়র ফারুকুল হক,আওয়ামীলীগ সভাপতি আতাউর রহমান খাঁন, সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল, সিলেট জেলা পরিষদের সদস্য নজরুল হোসেন, বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি খালেদ জাফরী,পঞ্চখন্ড গোলাবিয়া পাবলিক লাইব্রেরীর সাধারণ সম্পাদক আবু আহমদ সাহেদ প্রমুখ।
প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিলাদ মো.জয়নুল ইসলামের পরিচালনায় শোকসভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিয়ানীবাজার পৌরসভার প্রথম মেয়র মো. আব্দুস শুকুর ও মরহুমের পরিবারের পক্ষে তাঁর বড় ছেলে অলক।
অপরদিকে জানাযার পূর্বে বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাব, পঞ্চখন্ড গোলাবিয়া পাবলিক লাইব্রেরী ও গোলাবশাহ কিশোর সংঘ মরহুমের মরদেহে পুষ্পশ্রদ্ধা অর্পণ করেন।













