
জিয়াউর রহমান,সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
লাইলাতুল কদর নিয়ে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কয়েকটি হাদিসের অনুবাদ:
০১. ‘লাইলাতুল কদরে হযরত জিবরাইল (আ.) ফেরেশতাদের বিরাট এক দল নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং যত নারী-পুরুষ নামাজরত অথবা জিকিরে মশগুল থাকে, তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন।’ (তাফসিরে মাজহারি)।
০২. হযরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) এরশাদ করেন, ‘যদি তোমরা কবরকে আলোকময় পেতে চাও তাহলে লাইলাতুল কদরে জাগ্রত থেকে ইবাদত কর। রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, যদি কেউ ঈমানের সঙ্গে সাওয়াব লাভের খাঁটি নিয়তে লাইলাতুল কদরে কিয়ামুল্লাইল বা তাহাজ্জুদে অতিবাহিত করে তবে তার পূর্ববর্তী সকল গোনাহ ক্ষমা করা হবে।’ (বুখারি, হাদিস নং : ৬৭২/মিশকাত)।
০৩. রাসূল (সা.) আরও বলেন, ‘রমজানের শেষ দশদিনে তোমরা কদরের রাত তালাশ কর।’ (মুসলিম, হাদিস নং: ১১৬৯)।
০৪. একদা হযরত উবায়দা (রা.) নবী করীম (সা.) কে লাইলাতুল কদরের রাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তখন নবীজী সেই সাহাবিকে বললেন, ‘রমজানের শেষের দশ দিনের বেজোড় রাতগুলোকে তালাশ করো।’ (বুখারি, হাদিস নং: ২০১৭)।
০৫. হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যদি কেউ লাইলাতুল কদর খুঁজতে চায় তবে সে যেন তা রমজনের শেষ দশ রাত্রিতে খোঁজ করে।’ (মুসলিম, হাদিস নং : ৮২৩)। নোট: সম্ভব হলে শেষ দশরাতকেই গুরুত্ব দিতে হবে। তবে বিজোড় রাতগুলোতেই বেশি বেশি কষ্ট করতে হবে (২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯ রমজানের রাত)
০৬. হযরত রাসূল (সা.) বলেন, ‘যে লোক লাইলাতুল কদর থেকে বঞ্চিত হয় সে যেন সমগ্র কল্যাণ থেকে পরিপূর্ণ বঞ্চিত হল।’ (ইবনে মাজাহ)।
০৭. হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদর পেলো কিন্তু ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে কাটাতে পারলো না, তার মতো হতভাগা দুনিয়াতে আর কেউ নেই।’ (আবু দাউদ)
০৮. ‘কদরের রাতের ইবাদতের সুযোগ যাতে হাতছাড়া হয়ে না যায় সেজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ দশদিনের পুরো সময়টাতে ইতেকাফরত থাকতেন।’ (মুসলিম, হাদিস নং : ১১৬৭)।
০৯. রাসূল (সা.) বলেন, ‘লাইলাতুল কদরকে নির্দিষ্ট না করার কারণ হচ্ছে যাতে বান্দা কেবল একটি রাত জাগরণ ও কিয়াম করেই যেন ক্ষ্যান্ত না হয়ে যায় এবং সেই রাতের ফজিলতের উপর নির্ভর করে অন্য রাতের ইবাদত ত্যাগ করে না বসে। তাই বান্দার উচিত শেষ দশকের কোন রাতকেই কম গুরুত্ব না দেয়া এবং পুরোটাই ইবাদাতের মাধ্যমে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করা।’
১০. হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা আমি রাসূল (সা.) কে জিজ্ঞাসা করলাম হে আল্লাহর রাসূল আমি যদি কদরের রাত সম্পর্কে অবহিত হতে পারি তবে আমি কি করব? তখন রাসূল (সা.) আমাকে এই দুয়া পাঠ করার জন্য বললেন। ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি’ অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ্ তুমি মার্জনাকারী, মার্জনা করাকে তুমি পছন্দ করো, আমাকে মার্জনা করো প্রভু হে!'(তিরমিজি, হাদিস নং : ৩৫১)।
আল্লাহ্ আমাদের প্রত্যেককে লাইলাতুল কদরের ফজিলত নসীব করুন। আমিন।












