ইসলাম ও জীবন ফজরের পর ঘুমানোর অপকারীতা

মোঃ জসিম উদ্দিন খান,কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সুন্নত হচ্ছে ফজরের পর না ঘুমানো। হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করেছেন, ‘হে আল্লাহ! আমার উম্মতের জন্য দিনের শুরু বরকতময় করুন।’ হাদিস বর্ণনাকারী বলেন, ‘এ জন্যই হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) কোনো যুদ্ধ অভিযানে বাহিনী পাঠানোর সময় দিনের শুরুতে পাঠাতেন।’

হাদিস বর্ণনাকারী হজরত সাখর গামেদি (রা.) ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। তিনিও তার ব্যবসায়িক কার্যক্রম ভোরবেলা শুরু করতেন। এতে তার ব্যবসায় অনেক উন্নতি হয় এবং তিনি সীমাহীন প্রাচুর্য লাভ করেন। -সুনানে আবু দাউদ: ২৬০৬

পূর্ববর্তী আলেমরা ফজরের পর ঘুমানোকে মাকরুহ মনে করতেন। হজরত উরওয়া ইবনে যুবাইর (রহ.) বলেন, যুবাইর (রা.) তার সন্তানদের ভোরবেলা ঘুমানোর ব্যাপারে নিষেধ করতেন। হজরত উরওয়া (রহ.) বলেন, ‘আমি যখন কারও সম্পর্কে শুনি, সে ভোরবেলা ঘুমায় তখন তার প্রতি আমি আগ্রহ হারিয়ে ফেলি।’ -মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা: ৫/২২২

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) তার এক সন্তানকে ভোরবেলা ঘুমাতে দেখে বলেছিলেন, ‘ওঠো! তুমি কি এমন সময়ে ঘুমিয়ে আছ, যখন রিজিক বণ্টন করা হচ্ছে?’ -যাদুল মায়াদ: ৪/২৪১

সুতরাং, সফল জীবনের জন্য, জীবনের উন্নতির জন্য সকালে ঘুমের অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।
এ জন্য এশার নামাজের পর তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে যেতে হবে। অহেতুক গল্প-গুজব করে রাত নষ্ট করা যাবে না। আর ফজরের নামাজ আদায় করে কোরআন তেলাওয়াত ও জিকির-আজকার শেষে যার যার কাজে মনোনিবেশ করা, না ঘুমিয়ে হালাল রিজিক অন্বেষণের জন্য বেরিয়ে পড়া।
আল্লাহতায়ালা প্রত্যেককে ফজরের পরের বরকতময় সময়টাকে সৎভাবে কাজে লাগানো এবং হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিটি সুন্নত সঠিকভাবে আদায় করার তওফিক দান করুন।


ইসলাম ও জীবন ফজরের পর ঘুমানোর অপকারীতা

Share this news as a Photo Card

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here